ব্যাসিক কিছু লিনাক্স কমান্ড – ২

ব্যাসিক কিছু লিনাক্স কমান্ড - ২

আমরা গত আর্টিকেলে কথা বলেছি লিনাক্স কী, কমান্ড কী? শেল কিংবা টার্মিনাল কী এবং বেশ কিছু বহুল পরিচিত কমান্ড এবং তার কাজ নিয়ে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা আলোচনা করব সেরকম কিছু জনপ্রিয় এবং প্রয়োজনীয় লিনাক্স কমান্ড নিয়ে। যদিও আজকের আর্টিকেলে কোন ভূমিকা থাকবে না বরং একদম কমান্ড দিয়েই শুরু করব। তো চলুন শুরু করা যাক

ব্যাসিক কিছু লিনাক্স কমান্ড - ২
ব্যাসিক কিছু লিনাক্স কমান্ড – ২

ব্যাসিক লিনাক্স কমান্ড

১। man — ধরুন আপনি কোন একটা কমান্ড সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছেন তাহলে নিশ্চয় সেটার ম্যনুয়াল আপনার প্রয়োজন হবে, রাইট? আর সেই কাজটাই সহজে করা যাবে man কমান্ডের সাহায্যে। আপনি সহজেই “man cd” এভাবে কমান্ড লিখে স্পেসিফিক কোন কমান্ডের ম্যানুয়াল পড়তে পারবেন।

২। help — আগের পয়েন্ট এ আমরা দেখলাম কিভাবে কোন স্পেসিফিক কমান্ডের ম্যানুয়াল সম্বন্ধে জানা যায় এবং সেটা খুঁজে পাওয়া যায়। তবে যদি খুব বেশি ডিটেইলস এ না গিয়ে বরং কিভাবে ব্যবহার করতে হবে এটা জানতে চান তাহলে আপনার প্রয়োজন হবে help কমান্ড। “cd –help” এই কমান্ডের মাধ্যমে আপনি সহজেই ব্যবহার বিধি জানতে পারবেন।

৩। cp — cp
কমান্ড মূলত ব্যবহৃত হয় কমান্ড লাইনের মাধ্যমে কোন ফাইল কপি করার কাজে। এই কমান্ড মূলত দুইটা আর্গুমেন্ট নেয়, প্রথমটা যে ফাইল কপি করবেন তার প্যাথ বা লোকেশন এবং সেকেন্ড আর্গুমেন্ট হিসেবে কোথায় পেস্ট করবেন সেই প্যাথ।

৪। mv — mv কমান্ড মূলত ব্যবহৃত হয় কমান্ড লাইনের মাধ্যমে কোন ফাইল মুভ করার কাজে। এই কমান্ড মূলত দুইটা আর্গুমেন্ট নেয়, প্রথমটা যে ফাইল মুভ করবেন তার প্যাথ বা লোকেশন এবং সেকেন্ড আর্গুমেন্ট হিসেবে কোথায় পেস্ট করবেন সেই প্যাথ। তবে সহজেই কোন ফাইল নেম রিনেম করতেও আপনি এই কমান্ড ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন “mv old new” এই কমান্ড এর সাহায্যে কারেন্ট ডিরেক্টরির old নামের ফাইল new নামে চেঞ্জ হয়ে যাবে।

৫। locate — উইন্ডোজ এর সার্চ প্রোগ্রাম আপনি নিশ্চয় ব্যবহার করেছেন? কোন একটা নির্দিষ্ট ফাইলের প্যাথ বা ডিরেকশন জানতে বা খুঁজে পেতে আমরা সার্চ প্রোগ্রাম টি ব্যবহার করি। এবং লিনাক্সে ঠিক সেম কাজ টা করে locate কমান্ড।

আপনি চাইলে কোন ফাইল সার্চ করার সময় এর কেস সেন্সিবিলিটিও অফ করে রাখতে পারেন। ধরা যাক আপনি এমন একটা ফাইল খুঁজছেন যার মধ্যে “world” কথাটা রয়েছে তাহলে আপনি “locate -i world” এই কমান্ডের মাধ্যমে যতগুলো ফাইলের মধ্যে world শব্দটি রয়েছে সবগুলো খুঁজে পাবেন। সেটা ক্যাপিটাল কিংবা ক্যামেলকেস যায় হোক না কেন।

৬। echo — এই কমান্ড এর মাধ্যমে আপনি কোন ডেটা কোন ফাইলের মধ্যে ট্রান্সফার করতে পারেন। আবার এই কমান্ড এর সাহায্যে একই সঙ্গে কোন ফাইল তৈরি এবং সেখানে কোন ডেটা রাখা সম্ভব। যেমন “echo hello, my name is shahriar >> name.txt” এই কমান্ডের মাধ্যমে একটা নতুন টেক্সট ফাইল তৈরি হবে যার নাম new এবং সেই ফাইলের মধ্যে  hello, my name is shahriar এই লেখাগুলো থাকবে।

৭। cat — এই কমান্ডের সাহায্যে আপনি যেকোন ফাইলের কন্টেন্ট সহজেই আপনার টার্মিনাল এ শো করতে পারবেন বা দেখতে পারবেন। এটা আর ৫ টা প্রিভিউ প্রোগ্রামের মতোই কাজ করে।

৮। df — এই কমান্ডের সাহায্যে আপনার কোন ড্রাইভের পার্টিশনে কি পরিমাণ স্পেস এভেইলেভল রয়েছে সেটা জানতে পারবেন। ব্যাসিকালি ডিফল্ট ভাবে আপনাকে সাইজ গুলো KBs এ দেখাবে তবে চাইলে সেগুলো আপনি MB এর দেখানোর জন্য “df -m” কমান্ড ব্যবহার করতে পারেন।

৯। du — এই কমান্ডের সাহায্যে কোন ফাইল এর কত টুকু জায়গা বা ডিস্ক স্পেস নিয়ে রেখেছে সেটা জানতে পারবেন। খুব সিম্পল ভাবে আপনি du Downloads” এর মাধ্যমে আপনার ডাউনলোড ফোল্ডারের স্পেস দেখতে পারবেন। আবার ছোট একটা ট্রিক্স এর মাধ্যমে কারেন্ট ডিরেক্টরির সবগুলো ফাইলের সাইজ একসঙ্গে দেখতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে ব্যবহার করতে হবে “ls -lah” এই কমান্ড টি।

১০। tar — tar কমান্ডের মাধ্যমে কমপ্রেসড ফাইল রিলেটেড অনেক রকম কাজ আপনি করতে পারবেন। ফাইল কমপ্রেস থেকে আঙ্কম্প্রেস বা বিভিন্ন টাইপের আর্কাইভ তৈরি সব কিছুই করা সম্ভব এই কমান্ডের মাধ্যমে। আপনি সহজেই tar এর মাধ্যমে .tar, .tar.gz, .tar.bz2 ছাড়াও আরো অনেক ধরনের আর্কাইভ তৈরি করতে পারবেন। যেমন

– “tar -cvf” —–> এই কমান্ডের মাধ্যমে আপনি একটা .tar আর্কাইভ তৈরি করতে পারবেন।
– “tar -xvf” —–> এই কমান্ডের মাধ্যমে আপনি একটা .tar আর্কাইভ আনটার বা এক্সট্রাক্ট করতে পারবেন।
– “tar -tvf” —–> এই কমান্ডের মাধ্যমে আপনি একটা .tar আর্কাইভ এর সব কন্টেন্ট দেখাতে পারবেন।

১১। zip, unzip — এই কমান্ডগুলোর মাধ্যমে প্রয়োজনে কোন একটা ফাইল কে কমপ্রেস করে জিপ ফাইল তৈরি করা কিংবা কোন জিপ ফাইলে আনজিপ করে কন্টেন্ট এক্সট্রাক্ট করতে পারবেন।

১২। uname — এই কমান্ড দিয়ে আপনি আপনার সিস্টেমের সব ধরনের তথ্য শো করতে পারেন। যেমন “uname -a” এই কমান্ডের মাধ্যমে আপনি আপনার সিস্টেমের সব ধরনের তথ্য দেখতে পারবেন। কার্নেল রিলিজ ডেট, ভার্সন, প্রসেসর টাইপ সহ সব ধরনের তথ্যই আপনি পেয়ে যাবেন।

১৩। nano, vi, jed — nano এবং vi হচ্ছে বহুল প্রচলিত প্রি ইন্সটল্ড লিনাক্স টেক্সট এডিটর। nano অনেক জনপ্রিয় কোড এডিটর যার মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এর সিনট্যাক্স হাইলাইট সম্ভব এছাড়াও বিভিন্ন কমান্ডের মাধ্যমেও আপনি অপারেট করতে পারবেন। এছাড়া vi হচ্ছে ভীম কোড এডিটর এর এব্রেভিয়েশন। এটিও অনেক ভালো একটি কোড এডিটর।

আর jed হচ্ছে অন্য আরেক্টি টেক্সট এডিটর। আপনি এই টেক্সট এডিটর গুলোর মাধ্যমে কোন সাপোর্টেড ফাইল ওপেন করতে চাইলে উক্ত এডিটর এর নামের পাশে স্পেস দিয়ে ফাইলনেম দিলেই হবে। যেমন nano দিয়ে যদি একটা HTML ফাইল ওপেন করে এডিট করতে চান তাহলে “nano index.html” এই কমান্ড দিতে হবে।

ডিফল্ট ইন্সটল্ড হয় শুধু চাইলে আপনার নিজে ইন্সটল করা এডিটর ও ব্যবহার করতে পারেন। যেমন VSCode এর সাহায্যে উপরের ফাইল টি ওপেন করে এডিট করতে চাইলে “code index.html” এই কমান্ড টিতেই কাজ হবে।

পরিশেষে

তো এই ছিল মোটামুটি লিনাক্সের ব্যাসিক কমান্ড সিরিজের ১৩ টি অসাধারণ টার্মিনাল কমান্ড এবং তার ব্যবহার। ইনশাল্লাহ নেক্সট আর্টিকেলে আরো বেশ কিছু কমান্ড ও ব্যবহার নিয়ে কথা হবে। কমেন্ট করে জানিয়ে দিন আপনার পছন্দের কমান্ড এবং কোন কোন কমান্ড টি আপনি আগে থেকেই জানতেন বা ব্যবহার করতেন। ইনশাল্লাহ দেখা হবে নেক্সট আর্টিকেলে, ততদিন ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। আসসালামু আলাইকুম।

You Might Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *