লিনাক্সের ব্যাসিক কিছু টার্মিনাল কমান্ড এবং তার ব্যবহার

লিনাক্সের ব্যাসিক কিছু টার্মিনাল কমান্ড এবং তার ব্যবহার

লিনাক্স কী, টার্মিনাল কী এবং কমান্ড ই বা কী এধরনের কিছু বহুল আলোচিত প্রশ্ন এবং সেই সাথে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় লিনাক্স টার্মিনাল কমান্ড নিয়েই মূলত আজকের আর্টিকেল টি। লিনাক্সের যেকোন ধরনের ডিস্ট্রোর ক্ষেত্রেই এই কমান্ড গুলো ভ্যালিড অর্থাৎ সফল ভাবে কাজ করবে। তাই চলুন আর দেরি না করে এখনই লিনাক্স এর ছোট খাটো একটা QnA এবং সেই সাথে কমান্ড গুলোর সঙ্গে পরিচিত হয়ে নেই।

লিনাক্সের ব্যাসিক কিছু টার্মিনাল কমান্ড এবং তার ব্যবহার
 লিনাক্সের ব্যাসিক কিছু টার্মিনাল কমান্ড এবং তার ব্যবহার

 

লিনাক্স কী?

লিনাক্স হচ্ছে একটা কার্নেল যার উপরে বেজ করে অনেক জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম তৈরি হয়েছে। আপনি হয়ত UNIX এর নাম শুনেছেন এবং লিনাক্স হচ্ছে এই UNIX এর ই একটা ক্লোন মাত্র। কিন্তু এটা UNIX থেকে ফর্ক করা হয়েছে এমন ভাবলে আবার ভুল হবে, বরং লিনাস টারভাল্ডস একদম শুরু থেকেই এই কার্নেল টি তৈরি করেন। 

লিনাক্স একদম ফ্রি এবং ওপেন সোর্স একটা কার্নেল অর্থাৎ যে কেউ একদম সহজেই কোন ঝামেলা ছাড়াই নিজের মতো মডিফাই করে নিজের নামে রিডিস্ট্রিবিউট করতে পারবে। এ ধারনা থেকেই লিনাক্সের অনেকগুলো জনপ্রিয় ডিস্ট্রো এখন অবধি পরিচিতি পেয়েছে। যেমন

– Ubuntu Linux
– Red Hat Enterprise Linux
– Linux Mint
– Debian
– Fedora
– Arch

লিনাক্স সবথেকে বেশি ব্যবহৃত হয় সার্ভার এর ক্ষেত্রে। ইন্টারনেটের ৯০% ই লিনাক্সের সার্ভারের দখলে। আর হবেই না কেন? লিনাক্স হচ্ছে ফাস্ট, সিকিউর এবং সেই সাথে সম্পুর্ন ফ্রি। এই ক্ষেত্রে অল্টারনেটিভ উইন্ডোজ সার্ভার ও বেশ ভালো তবে এর উচ্চমূল্যের কারণে তেমন কেউ ব্যবহার করেনা।

দুনিয়ার ৮০% স্মার্টফোন যে অপারেটিং সিস্টেম এর উপর নির্ভর করে আছে সেই এন্ড্রোয়েড ও কিন্তু লিনাক্স বেজড। বেশিরভাগ ভয়ংকর ভাইরাস মূলত উইন্ডোজ কে টার্গেট করে তৈরি করা হয় সেক্ষেত্রে লিনাক্স অনেক সেফ।

লিনাক্স শেল নাকি টার্মিনাল ?

সহজ ভাষায় বললে, “শেল” হচ্ছে এমন একটা প্রোগ্রাম যেটা ইউজারের কাছ থেকে কমান্ড রিসিভ করে সেটা অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রসেসর কে পাঠিয়ে প্রসেস করে।

এবং তার পরে আউটপুট ও দেখায়। লিনাক্সের মেইন পার্ট হচ্ছে এর শেল। লিনাক্সের বেশিরভাগ ডিস্ট্রোই আসে GUI( Graphical User Interface) আকারে তবে লিনাক্সের শেল হিসেবে আছে এর নিজস্ব CLI ( Command Line Interface ). আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ব্যাসিক কিছু কমান্ড দেখব যেগুলো আপনি লিনাক্স শেল এ ইনপুট দিয়ে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

টার্মিনাল ওপেন করতে Ctrl + Alt + T উবুন্টুর ক্ষেত্রে, অথবা Alt + F2 যদি জিনোম টার্মিনাল ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া রাজবেরি পাই এর ক্ষেত্রে lxterminal লিখলেই এর টার্মিনাল ওপেন হবে। টার্মিনাল ওপেন করার বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও এটাই বেটার।

লিনাক্স কমান্ড

ব্যাসিক কমান্ড

১। pwd — আপনি যখন প্রথমবার লিনাক্স টার্মিনাল ওপেন করবেন তখন আপনার স্বভাবতই প্রশ্ন জাগবে মনে যে আপনি এখন কোন ডিরেক্টরি তে রয়েছেন। এবং আপনার কারেন্ট ডিরেক্টরি এড্রেস জানতে লিখুন “pwd” কমান্ড। এটা রিটার্ন হিসেবে আপনাকে একদম এবসুলেট প্যাথ আউটপুট দিবে অর্থাৎ একদম রুট থেকে যে ডিরেক্টরি এড্রেস সেটা। লিনাক্সে রুট কে / দ্বারা বোঝানো হয় এবং এটিই মূলত লিনাক্সের রুট ডিরেক্টরি। আর ইউজার ডিরেক্টরির ক্ষেত্রে সেটা হয় অনেক্টা এরকম “/home/username”

২। ls — আপনি আপনার টার্মিনাল নিয়ে বর্তমানে যে ডিরেক্ট্রিতে রয়েছেন সেই ডিরেক্টরিতে কি কি ফাইল রয়েছে সেগুলো যদি সব দেখতে চান তাহলে আপনার টার্মিনালে ‘ls’ কমান্ড দিলেই চলবে। আপনার কারেন্ট ডিরেক্টরির সব ফাইল গুলো লিস্ট আকারে দেখতে পাবেন। আর যদি হিডেন ফাইল অর্থাৎ ( . ) দিয়ে শুরু হওয়া ফাইল গুলোও দেখতে চান তাহলে “ls -a” কমান্ড দিলেই হবে।

৩। cd — আপনি টার্মিনাল ওপেন করলে একটা ডিফল্ট ডিরেক্টরিতে থাকবেন কিন্তু যদি পছন্দ অনুযায়ী সেটা চেঞ্জ করতে ইচ্ছা করে তাহলে সেটাও করতে পারবেন cd কমান্ড এর সাহায্যে। উদাহরণ হিসেবে, যদি আপনি হোম ডিরেক্টরিতে থাকেন বা হোম ফোল্ডারে থাকেন এবং যদি ডাউনলোড ফোল্ডারে যেতে চান তাহলে “cd Downloads”

এই কমান্ডের মাধ্যমে আপনি সহজেই ডাউনলোড ফোল্ডারে যেতে পারবেন। আর মনে রাখবেন এই কমান্ড কিন্তু কেস সেনসিটিভ অর্থাৎ Downloads এবং downloads দুইটা সম্পুর্ন আলাদা প্যাথ বা ফোল্ডার।

৪। mkdir & rmdir — আপনি mkdir কমান্ডের সাহায্যে ইচ্ছামতো ডিরেক্ট্রি কিংবা ফোল্ডার তৈরি করতে পারবেন। ধরা যাক আপনি Tutorial নামে একটা ফোল্ডার তৈরি করবেন তাহলে “mkdir Tutorial” এই কমান্ডের সাহায্যে সহজেই একটা ফোল্ডার তৈরি করে ফেলতে পারবেন।

এছাড়া যদি এমন নামের ফোল্ডার দরকার হয় যেখানে দুইটা ওয়ার্ড আছে তাহলে সেখানে দুইটা ওয়ার্ডের মাঝে একটা ব্যাক্সল্যাশ দিয়ে দিবেন। এবারে দেখি চলুন rmdir, মূলত কোন ফাকা ডিরেক্টরি বা ফোল্ডার যেখানে কোন কন্টেন্ট নেই সেরকম ফোল্ডার বা ডিরেক্টরি ডিলিট করতে rmdir কমান্ড ব্যবহৃত হয়। আর যদি এমন ফোল্ডার ডিলিট করার দরকার হয় যেখানের কন্টেন্ট আছে সেক্ষেত্রে rm ব্যবহার করতে হবে।

৫।  rm — যদিও আগেই rm কমান্ডের কাজ বলে দিয়েছি তবুও আলাদা করে বলার প্রয়োজন রয়েছে। মূলত কোন ফাকা ডিরেক্টরি বা ফোল্ডার যেখানে কোন কন্টেন্ট নেই সেরকম ফোল্ডার বা ডিরেক্টরি ডিলিট করতে rmdir কমান্ড ব্যবহৃত হয়।

আর যদি এমন ফোল্ডার ডিলিট করার দরকার হয় যেখানের কন্টেন্ট আছে সেক্ষেত্রে rm ব্যবহার করতে হবে। তবে যদি কোন কারণে এমন প্রয়োজন হয় যে শুধু ডিরেক্টরি ডিলিট করবেন কিন্তু এর কন্টেন্ট থেকে যাবে তাহলে আবার ভিন্ন কমান্ড সেক্ষেত্রে “rm -r” দিতে হবে।

৬। touch — এতক্ষণ দেখলেন কিভাবে ফোল্ডার তৈরি করতে হয় তবে যদি কোন ফাইল তৈরি করতে হয় এবং স্পেসিফিক ফরম্যাট সহ তাহলে প্রয়োজন হবে touch. আপনি “touch FILE_NAME.FORMAT” এভাবে করে কমান্ড দিয়ে প্রয়োজনীয় ফাইল তৈরি করতে পারবেন।

সেটা হতে পারে টেক্সট ফাইল কিংবা কন্টেন্ট বিহীন জিপ ফাইল। যেমন “touch index.html” এই কমান্ডের সাহায্যে আপনার কারেন্ট ডিরেক্টরিতে আপনি index নামের একটা html ফাইল তৈরি করতে পারবেন।

পরিশেষে

তো এই ছিল মোটামুটি আজকের মত লিনাক্স টার্মিনাল কমান্ড নিয়ে আর্টিকেল। ইনশাল্লাহ নেক্সট আর্টিকেলে আরো কিছু কমান্ড নিয়ে আমাদের দেখা হবে। আর আপনি আগে থেকে কোন কোন কমান্ড ব্যবহার করতেন সেটা জানিয়ে দিন কমেন্ট করে, পছন্দ হলে করে ফেলুন শেয়ার এবং দিয়ে দিন একটা লাইক। সেই অবধি ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আসসালামু আলাইকুম।

You Might Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *