লিনাক্সের জন্য জনপ্রিয় সিস্টেম মনিটরিং টুল

লিনাক্সের জন্য জনপ্রিয় সিস্টেম মনিটরিং টুল

আপনি সিস্টেম এডমিনিস্টেটর হোন কিগ্নবা ক্যাজুয়াল ডেস্কটপ ইউজার, আপনি নিশ্চয় top এর নাম শুনেছেন যেটা জনপ্রিয় সিস্টেম মনিটরিং টুল। অনেক লিনাক্স ডিস্ট্রো তে এটাই আবার টাস্ক ম্যানেজার ও। মূলত এটা একটা টার্মিনাল বেজড সিস্টেম মনিটর যার মাধ্যমে পুরো সিস্টেম আপনি সহজেই মনিটর করতে পারবেন এবং প্রয়োজন মতো সেটার ফিক্স ও করতে পারবেন।

আপনার সিস্টেমের সব ধরনের রানিং প্রসেস সহ পারফরম্যান্স রিলেটেড অনেক ইনফো থাকে মূলত এসব মনিটরিং টুল এ। কোন প্রসেস বন্ধ করা কিংবা সাময়িক ফ্রিজ করার মতো কাজ ও এখানে করা যায়।

 

লিনাক্সের জন্য জনপ্রিয় সিস্টেম মনিটরিং টুল
লিনাক্সের জন্য জনপ্রিয় সিস্টেম মনিটরিং টুল

 

কিন্তু টপ এর কি কোন অল্টারনেটিভ নাই? চলুন দেখে আসি এর অল্টারনেটিভ গুলো সম্বন্ধে। কিন্তু তার আগে জানা দরকার অল্টারনেটিভ দরকার কেন?

মূলত টপ হচ্ছে টার্মিনাল বেজড মনিটর টুল অর্থাৎ আপনি না পারবেন স্ক্রল করতে না পারবেন মাউস ব্যবহার করতে কিংবা নেই কোন হাইলাইট সুবিধা। এছাড়াও আর বেশ কিছু অসুবিধা আছে মূলত এধরনের টারমিনাল বেজড মনিটরিং টুল এর। এমন সব কারণেই আমাদের ফ্লুয়েন্ট কোন সমাধান প্রয়োজন।

এমন কিছু অল্টারনেটিভ আছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনি গুরত্তপুর্ন বিভিন্ন ইনফরম্যাশন সহ প্রসেস ম্যানেজমেন্ট করতে পারবেন সহজেই।

তো আজকের এই আর্টিকেলে অল্টারনেটিভ যেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে মূলত সেগুলো আপনাকে দেবে আর বেশি সুবিধা এবং সাপোর্ট।

তো চলুন দেখে আসি

লিনাক্সের জন্য জনপ্রিয় সিস্টেম মনিটরিং টুল

1. htop

htop হচ্ছে ইন্টারেক্টিভ সিস্টেম মনিটরিং টুল যেখানে মাউস ইন্টারেকশন এর পাশাপাশি আরো পাবেন স্ক্রলিং এর সুবিধা।

শুধুমাত্র এডভান্স ফিচারেই সীমাবদ্ধ নয় বরং প্রসেস হাইলাইট করা সহ প্রসেস সম্বন্ধে বিভিন্ন তথ্য বিভিন্ন নির্দেশন কালারের মাধ্যমে অরগানাইজ করা থাকে। এছাড়া টার্মিনাল বেজড হওয়া সত্ত্বেও এখানে কাজ করা তুলনামূলক সহজ। তাছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে আমিও প্রেফার করে থাকি সবাইকে htop ব্যবহারে।

এখানে আপনি সিস্টেম এর রিসোর্স ইউজ এবং সব ধরনের রানিং প্রসেস সহজেই দেখে বুঝতে পারবেন। এছাড়া কোন প্রসেস প্রয়োজনে বন্ধ করা, ফিল্টার করে অর্গানাইজ করা, ট্রি ভিউ এবং প্রসেস অটো রিফ্রেশ এর মতো সুবিধা সহজেই মিলবে htop এ।

২। atop

আপনি যদি রানিং প্রসেস সম্বন্ধে তুলনামূলক বেশি ইনফো এবং ডিটেইল জানতে চান তাহলে অবশ্যই atop হবে বেস্ট ইউটিলিটি টুলস।

এছাড়াও আরো এটি সাপোর্ট করে পার্মানেন্ট রিসোর্স লগিং এবং রিসোর্স ইউটিলাইজেশন সহ লং টার্ম এনালাইসিস এর জন্য অবশ্যই atop বেস্ট হবে। যদিও আমি একজন প্রফেশনাল সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেশন নই তবুও এটা সহজেই বলা যায় যে বিভিন্ন ক্রিটিকাল সিচুয়েশন এও এর পারফরম্যান্স মনিটরিং সার্ভিস অসাধারণ।

আমার কেস এর ক্ষেত্রে আমি htop এর তুলনায় atop কে বেশি প্রেফার করে থাকি। যদিও এটা সম্পুর্ন নির্ভর করবে প্রয়োজন এবং চাহিদার উপর। আপনি কেমন ইনফরমেশন মনিটর করতে চাচ্ছেন এবং কি কি এক্সট্রা ফিচার এর প্রয়োজন বোধ করছেন সেগুলোর উপরেই নির্ভর করবে আপনার সিস্টেম মনিটর এর সিলেকশন।

৩। nmon

nmon আরো একটা উপকারী ইউটিলিটি যেটার মাধ্যমে সহজেই পারফর‍্যমান্স এবং রিসোর্স ইউজ মনিটর করা যায় এবং প্রসেস সম্বন্ধে বিভিন্ন অপারেশন অপারেট করা যায়।

অন্য অপশন গুলোর মতো নয় বরং এখানে আপনি আর বেশি কন্ট্রোল যেমন পাবেন তেমনি পাবেন প্রতিটা ইনফরমেশন ব্রেকডাউন করে সেগুলো ডিস্প্লে করতে। এছাড়া কালার হাইলাইট এবং বিভিন্ন ইনফো বিভিন্ন কালারের ডিস্প্লে করার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

কী বোর্ড এর শর্টকাট কি এর মাধ্যমেই পুরো প্রসেস আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এবং ব্যবহারেও বেশ সহজ।

৪। vtop

vtop হচ্ছে একটা ইন্টারেস্টিং ইউটিলিটি মনিটরিং সিস্টেম টুলস যার মাধ্যমে সহজেই পুরো সিস্টেমের প্রসেস ম্যানেজ করা সম্ভব।

এটা মূলত নোড জেএস উপর বেজড করে তৈরি তাই ইন্সটল করতে অবশ্যই আপনার নোড জেএস ইন্সটল করা থাকতে হবে।

আউট অফ দা বক্স এটা মাউস ফাংশনালিটি সাপোর্ট করে এবং সেই সাথে এর পুরো ইউজার ইন্টারফেক্স GUI এর মতো। আপনি প্রয়োজন মতো চাইলে মাউস সাপোর্ট ডিজেবল ও করে দিতে পারবেন। আর তাছাড়া এর ক্লিন লুক এর কারণে সহজেই পুরো সিস্টেম মনিটর করা সম্ভব।

৫। bashtop

bashtop অন্যগুলোর থেকে এর লুকের কারণে সম্পুর্ন আলাদা এবং রিসোর্স ও বেশি ব্যবহার করে। এছাড়া এটা দেখতে যেমন মডার্ন এবং ব্যবহার ও অনেক সহজ।

ইভেন আমিও htop এর পরিবর্তে bashtop ব্যবহারের চিন্তা করছি। এটার ডিফল্ট মনিটরিং সার্ভিস মডিউল এর পাশাপাশি আপনি আর পাবেন নতুন মডিউল যোগ করার মতো সুবিধা। চাইলে সিপিইউ টেম্পারেচর, সিপিইউ ফ্যান এর ঘুর্নন গণনার সুবিধা সহ বিভিন্ন এক্সট্রা ফিচার যোগ করা যায়।

৬। gtop

gtop অনেকটা আধুনিক এবং ক্লিন লুকিং লিনাক্স সিস্টেম মনিটর টুলস। তবে vtop এর মতো এটা ইন্সটল করতে গেলেও নোড জেএস প্রয়োজন হবে।

খুব বেশি কাস্টোমাইজ এর সুবিধা যদিও আপনি পাবেন না তবুও বেশ সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

৭। galances

galances হচ্ছে এমন সব ইউজারের জন্য বেস্ট যারা একই জায়গায় অনেক ইনফরমেশন পেতে চান। আপনার উইন্ডো এর সাইজ অনুযায়ী আপনাকে একই জায়গায় বিভিন্ন ইনফরমেশন দেখাবে।

ডিস্ক ইনপুট আউটপুট, টেম্পারেচর, নেটয়ার্ক, কার্নেল, ভার্সন, সেন্সর সহ সব ধরনের ইনফরমেশন আপনি পেয়ে যাবেন একই প্লাটফর্মে।

এছাড়াও আপনি পারবেন সব লগ এবং ইনফরমেশন গুলো বিভিন্ন ফরম্যাটে এক্সপোর্ট করার মতো সুবিধা। মূলত এটি এমন সব সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটর এর জন্য সুবিধা জনক যারা কাস্টম ডেটা এক্সপোর্ট করে নিয়ে ড্যাশবোর্ড এ দেখাতে চান।

পরিশেষেঃ

এই ছিল মোটামুটি লিনাক্সের বেস্ট কিছু সিস্টেম মনিটরিং টুল এবং যার মাধ্যমে আপনি সহজেই পারবেন পুরো সিস্টেমের সব ধরনের প্রসেস নিয়ন্ত্রণ এবং পারফরম্যান্স মনিটরের মতো সুযোগ।

কমেন্ট করে জানিয়ে দিন আপনার মতামত এবং কোন সিস্টেম মনিটর টি আপনি ব্যবহার করছেন এবং কেন করছেন জানাতে পারেন  কমেন্ট বক্সে। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি, দেখা হবে ইনশাল্লাহ নেক্সট আর্টিকেলে, ধন্যবাদ।

You Might Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *