৩২ বিট কম্পিউটারের জন্য বেস্ট লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন

৩২ বিট কম্পিউটারের জন্য বেস্ট লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন

আপনি যদি লেটেস্ট আপডেটেড লিনাক্স ডিস্ট্রো গুলোর দিকে তাকান তাহলে দেখবেন প্রায় সবাই তাদের ৩২ বিট সাপোর্ট তুলে নিচ্ছে। এখন থেকে লেটেস্ট আপডেটেড ডিস্ট্রো ব্যবহারের জন্য ৬৪ বিট প্রায় মাস্ট হয়ে গেছে। আর্ক লিনাক্স, উবুন্টু, ফেডোরা সবাই তাদের পুরাতন আর্টিকেচার সাপোর্ট বন্ধ করে দিয়েছে।

 

৩২ বিট কম্পিউটারের জন্য বেস্ট লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন
৩২ বিট কম্পিউটারের জন্য বেস্ট লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন

কিন্তু যদি এমন হয় যে আপনার কম্পিউটার অনেক পুরাতন এবং আপনি চাচ্ছেন যে আপনার কম্পিউটার যেন কোনভাবে চালানো যায় তাহলে সেক্ষেত্রে আপনার জন্য আছে বেশ কিছু লাইট ডিস্ট্রো এবং প্রত্যেক্টার আছে ৩২ বিট আর্কিটেকচারের সাপোর্ট। যদিও খুব বেশ চয়েস আছে এমন না তবে আপনার পছন্দ হবে এরকম আশা করা যায়।

এই আর্টিকেলে আমি চেষ্টা করেছি বেস্ট লিনাক্স ডিস্ট্রো নিয়ে কথা বলার যেগুলো ৩২ বিট এ সাপোর্ট যেমন করবে তেমনি এর সাপোর্ট সামনের কিছু বছর অবধি থাকবে।

৩২ বিট কম্পিউটারের জন্য বেস্ট লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন

১। Debian

Debian একটা ফ্যান্টাস্টিক ৩২ বিট সিস্টেম সাপোর্টেড স্ট্যাবল লিনাক্স ডিস্ট্রো। এই আর্টিকেল লেখার সময় অবধি তাদের লেটেস্ট স্ট্যাবল রিলিজ হচ্ছে Debian 10 “Buster” যা ৩২ বিট সাপোর্ট করে এবং ২০২৪ সাল অবধি এই সাপোর্ট অক্ষত থাকবে।

আপনি যদি এখন ডেবিয়ান জগতে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে তাদের অসাধারণ ডকুমেন্টেশন পাবেন অফিশিয়াল উইকি তে। তাই শুরু করাটা খুব একটা কঠিন হবার কথা না।

এছাড়া তাদের নিজস্ব সফটওয়ার ইন্সটলার থাকায় যেকোন এপ্লিকেশন ইন্সটল করা খুব সহজ।

মিনিমাম সিস্টেম রিকুয়ারঃ

– ৫১২ এম্বি র‍্যাম
– ১ গিগা হার্টজ প্রসেসর ( পেন্টিয়াম ৪ অথবা সমমান )
– ১০ জিবই ডিস্ক স্পেস

২। Slax

আপনি যদি খুব দ্রুত বুট করে কিছু টেম্পোরারি কাজ করতে চান তাহলে স্লাক্স হচ্ছে আসলেই ভালো চয়েস।

যদিও এটা ডেবিয়ান বেজড তবুও এর লক্ষ্য হচ্ছে পোর্টেবল এবং ফাস্ট বুট এবং রান নিশ্চিত করা। ইউএসবি ডিভাইস কিংবা ডিভিডি সব মাধ্যমেই আপনি এর লাইভ চালাতে পারবেন খুব সহজেই।

আপনি তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ৩২ বিট এর ISO ফাইল টি ডাউনলোড করে নিয়ে ফ্রিতে আপনার ডিভাইস এ বুট করতে পারবেন।

অবশ্যই ট্রাডিশনাল ডেস্কটপ এর মতো এর ডেস্কটপ ইন্টারফেস নয় বরং আলাদা এবং ডেবিয়ান বেজড হওয়ায় এটাও ৩২ বিট সাপোর্ট করে।

মিনিমাম সিস্টেম রিকুয়ারঃ

– ১২৮ এম্বি র‍্যাম কিন্তু ব্রাউজ করার জন্য ৫১২ এম্বি র‍্যাম প্রয়োজন।
– i686 অথবা এর পরের লেটেস্ট কোন ভার্সন।

৩। Antix

হ্যাঁ এটাও আর একটা ডেবিয়ান বেজড ইম্প্রেসিভ ডিস্ট্রিবিউশন। Antix মূলত পরিচিত এবং জনপ্রিয় সিস্টেম ফ্রি ডিস্ট্রিবিউশন হিসেবে অর্থাৎ এর লাইটওয়েট ব্যবহার এবং পারফরম্যান্স ফোকাসড ইন্সটলেশন ও বেশ সহজ।

এটা যেকোন ওল্ড টাইপের ৩২ বিট সিস্টেমের জন্য পারফেক্ট এবং সুইটেবল। যেমন এটা চালাতে মাত্র ২৫৬ এম্বি র‍্যাম যথেষ্ট এবং ২.৭ জিবই স্টোরেজ স্পসেস এর মাধ্যমেই আপনি ভালো ভাবে চালাতে পারবেন। যদিও খুব বেশি সহজেই ইন্সটল করা যাবে এমন না তবে এর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বিগিনার এবং প্রফেশনাল সবার জন্যই উপযোগী।

মিনিমাম সিস্টেম রিকুয়ারঃ

– ২৫৬ এম্বি র‍্যাম
– PIII সিস্টেম
– ৫ জিবই ডিস্ক স্পেস

৪। openSUSE

openSUSE একটা স্বাধীন লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন অর্থাৎ কারো উপর বেজড করে তৈরি । তবুও এর ৩২ বিট সাপর্ট সহ রয়েছে আলাদা ৬৪ বিট ভার্সন ও। যদিও এর লেটেস্ট রেগুলার ভার্সন আবার ৩২ বিট অফার করেনা তবুও এর রোলিং রিলিজ এডিশন ৩২ বিট সাপোর্ট এবং অফার করে।

যদিও ব্যবহার করতে গিয়ে আপনি হয়ত একদম নতুন এক এক্সপেরিয়েন্স পাবেন তবুও আমার মনে হয় আপনার এটা ট্রাই করে দেখা উচিত।

মূলত এটা ফোকাস করে ডেভেলপার এবং সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেশন দের জন্য। তবুও একজন এভারেজ ইউজার হিসেবে আপনি সহজেই এর সব টুলস ইউটিলাইজ করতে পারবেন। যদিও এটা ৩২ বিট সাপোর্ট করে তবুও ভালো মতো চালাতে একটু ভালো কনফিগার প্রয়োজন হয়।

মিনিমাম সিস্টেম রিকুয়ারঃ

– ১ জিবি র‍্যাম
– ৪.১ গিগা হার্টজ প্রসেসর
– ৫ জিবই ডিস্ক স্পেস

৫। Q4OS

Q4OS আর একটা ডেবিয়ান বেজড ডিস্ট্রিবিউশন যেটা মূলত ফোকাস করে মিনিমাল এবং ফাস্ট ডেস্কটপ এক্সপেরিয়েন্স কে। এবং এটাও অন্যতম লাইট ওয়েট লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন।

এর ট্রিনিটি ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট ও অনেক লাইট ওয়েব এবং ট্রিনিটি ভার্সন ৩২ বিট সাপোর্ট করে। তবে এর KDE প্লাজমা ভার্সন আবার ৬৪ বিট ছাড়া চলবে না। তাই আপনার রিকুয়ার অনুযায়ী ইন্সটল দিবেন।

মাত্র ১২৮ এম্বি র‍্যামের সিস্টেমেই খুব সহজ এবং স্বাচ্ছন্দ্যেই আপনি Q4OS ব্যবহার করতে পারবেন। মাত্র ৩০০ মেগা হার্টজ সিপিইউ এবং ৩ জিবি স্টোরেজ এই সম্ভব এই ডিস্ট্রো রান করানো।

মিনিমাম সিস্টেম রিকুয়ারঃ

– ১২৮ এম্বি র‍্যাম ( ট্রিনিটি ডেস্কটপ ) / ১ জিবি ( প্লাজমা ডেস্কটপ )
– ৩০০ মেগা হার্টজ সিপিইউ ( ট্রিনিটি ডেস্কটপ ) / ১ গিগা হার্টজ ( প্লাজমা ডেস্কটপ )
– ৩ জিবি স্টোরেজ ( ট্রিনিটি ডেস্কটপ ) / ৫ জিবি ( প্লাজমা ডেস্কটপ )

পরিশেষে

যেহেতু ২০১০ সালের পরে তৈরি হওয়া সব প্রসেসর সিপিইউ ই ছিল ৬৪ বিট তাই ৩২ বিট সাপোর্ট করে শুধু এমন সিস্টেম খুঁজে পাওয়াই কঠিন। তবুও যদি আপনার সিস্টেম অনেক পুরাতন হয়ে থাকে এবং আপনি ব্যবহার করতে চান তাহলে উপরের কোন একটা ডিস্ট্রো সহজেই ইন্সটল করে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারবেন।

আজকের মতো এখানেই শেষ করছি দেখা হবে ইনশাল্লাহ নেক্সট কোন আর্টিকেলে। ততদিন ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। আর কমেন্ট করে জানিয়ে দেন আপনি কোন ডিস্ট্রো ব্যবহার করছেন। ধন্যবাদ

You Might Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *