লিনাক্সের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু এপ্লিকেশন

লিনাক্সের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু এপ্লিকেশন

লিনাক্সের বিশ্বে অনেক অনেক অল্টারনেটিভা আছে। কোন ডিস্ট্রো ইন্সটল করব? ডজন খানেক চয়েস আছে। ডিসেন্ট মিউজিক প্লেয়ার খুঁজছেন? অনেক অনেক অল্টারনেটিভ আছে। কিন্তু সবগুলো সবকাজের জন্য আবার পারফেক্ট না। কেউ কেউ তৈরি করে এডভান্স ইউজারের জন্য কেউ আবার ব্যাসিক ইউজ। সবার পছন্দ আর ব্যবহার অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন রকমের এপ্লিকেশন আছে।

লিনাক্সের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু এপ্লিকেশন
লিনাক্সের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু এপ্লিকেশন

কোন এপ্লিকেশন লাইট ওয়েট আবার কোন এপ্লিকেশন হাই রিসোর্স ইউজড। সবকিছু মিলিয়ে লিনাক্সের জন্য রয়েছে অনেকগুলো অলটারনেটিভ। আর সেই অনেক এপ থেকে আমরা বেছে বেছে কিছু এপ্লিকেশন নিয়ে কথা বলব যেগুলো একজন লিনাক্সের ইউজারের জন্য মাস্ট। যদিও বিষয়টা সাব্জেক্টিভ কারণ সবার প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়ার রয়েছে। আপনি যেমন ধরনের ইউজার আপনার জন্য তেমন ধরনের এপ্লিকেশন প্রয়োজন।

লিনাক্সের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু এপ্লিকেশন

আমি এখানে ক্যাটেগরি বেজড ২ টি করে প্রোডাক্ট নিয়ে কথা বলব। আমি ব্যক্তিগত ভাবে প্রোডাক্ট গুলো প্রেফার করি মানে এই না যে এগুলো বেস্ট। আপনি চাইলে অন্য যেকোন এপ ব্যবহার করতে পারেন তবে আমি যেগুলো রেকম্যান্ড করেছি সেগুলো ব্যবহার করলে আমার মনে হয় বেশ ভাল হবে।

ইমেজ এডিটর

আমরা অলরেডি বেস্ট লিনাক্স ফটো ম্যানেজার এপ্লিকেশন সম্বন্ধে আর্টিকেল লিখেছি। তবে এখানে আমি বেস্ট দুইটা নিয়ে কথা বলব।

১। গিম্প

গিম্প হচ্ছে এডোবি ফটোশপ এর অল্টারনেটিভ এবং এর প্লাগিন সাপোর্ট এর ফাংশনালিটি এর ফিচার গুলোকে আর বৃদ্ধি করে দেয়।  ইমেজ ম্যানিপুলেশন এর জন্য, স্কেল করার জন্য, ক্রপ করার জন্য এছাড়াও এডিটিং এর জন্য যে যে টুলস প্রয়োজন হয় তার সবকিছুই আপনি পাবেন গিম্প এ।

হাই কোয়ালিটি ফটো ম্যানিপুলেশন থেকে অরিজিনাল আরটোয়ার্ক ক্রিয়েশন সব  ক্ষেত্রেই গিম্প অসাধারণ। আইকন তৈরি, লগ ডিজাইন, গ্রাফিক্যাল টুলস এলিমেন্ট এবং কালার ম্যাঞ্জেমেন্ট এর ফিচার সুবিধা রয়েছে গিম্প এ। এবং  কাস্টোমাইজেশন অপশন এর মাধ্যমে আপনি থার্ড পার্টি প্লাগিন দিয়ে সহজেই আর  সুন্দর করে তুলতে পারেন গিম্প কে।

২। ইঙ্কস্কেপ

Inkscape অনেক প্রতিযোগী, ফ্রি এবং ওপেন সোর্স টুলস যেটাকে বলা যায় এডোবি  ইলাস্ট্রেটর এর অল্টারনেটিভ। একটি পাওারফুল ভেক্টর এডিটর, ফ্লেক্সিবল  ড্রয়িং টুলস সহ অনেক ধরনের ফাইল ফরম্যাট কম্পাটাবিলিটি, পাওারফুল টেক্সট  টুল এবং ব্যাজেইয়ের সাপোর্ট রয়েছে Inkscape এ।

অডিও এডিটর

১। অডাসিটি

Audacity হচ্ছে ব্যাসিক সহ ইন্টারমিডিয়েট ধরনের ভিডিও এডিটিং এর জন্য একদম  যুতসই এরটা টুল। এটা ফ্রি, ওপেন সোর্স এবং সেই সাথে ক্রস প্লাটফর্ম। এবং  এমন একটা সফটওয়ার যার নাম হয়তো শুনেন নি এমন কেউ নেই।

এটা প্লাগড ইন VST ইফেক্ট সাপোর্ট করে। এবং সেক্ষেত্রে অবশ্যই VST ইন্সট্রুমেন্ট সাপোর্ট করা স্বাভাবিক।

– লাইভ অডিও রেকর্ড করতে পারবেন মাইক্রোফোন এবং মিক্সার উভয়ের সাহায্যে।
– প্রায় প্রচলিত সব ধরনের অডিও ফরম্যাট এ ফাইল এক্সপোর্ট করতে পারবেন।
– প্লাগিন সাপোর্টঃ LADSPA, LV2, Nyquist, VST এবং Audio Unit effect plug-ins
– সহজ এডিটিং, কাট, পেস্ট, ডিলিট সহ কপি ফাংশানালিটি
– ভালোভাবে এনালাইসিস করার জন্য স্পেক্টগ্ররাম ভিউ মোড ও আছে।

২।  LMMS

LMMS হচ্ছে ডিজিটাল অডিও ওয়ার্ক স্টেশন যেটা একই সাথে ফ্রি এবং ওপেন সোর্স। আর হ্যাঁ এটাও ক্রস প্লাটফর্ম। সব ধরনের ব্যাসিক এডিটিং এর পাশাপাশি অনেক  অনেক এডভান্সড ফাংশানিলিটি আছে।

আপনি সাউন্ড মিক্স করা, এরেঞ্জ করা অথবা VST ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে সাউন্ড  তৈরি করার মতো কাজ সহজেই করতে পারবেন। সেই সাথে এডিটিং কে সহজ করতে  অনেকগুলো স্যাম্পল, প্রিসেট এবং ইফেক্ট ডিফল্ট ভাবে আপনি ব্যবহার করতে  পারবেন। এবং স্পেকট্রাম ভিউ মোড এর সাহায্যে সহজ এনালাইসিস তো আছেই।

– নোট প্লেব্যাক করতে পারবেন।
– VST ইন্সট্রুমেন্ট সাপোর্ট করে
– কোন এক্সটেনশন ছাড়াই মাল্টি স্যাম্পল সাপোর্ট করে।
– বিল্ট ইন কমপ্রেসর, লিমিটার, ডিলে, রিভার্ব, ডিস্টরশন এবং ব্যাস এনহেঞ্ছ

৩। ভিডিও এডিটর

১। KdenLive

Kdenlive হচ্ছে KDE এর ফ্রি এবং ওপেন সোর্স ভিডিও এডিটিং সফটওয়ার যেটা  আপনাকে ডুয়েল ভিডিও মনিটর, মাল্টি ট্র্যাক টাইমলাইন, ক্লিপ লিস্ট,  কাস্টোমাইজেবল লেয়াউট সাপোর্ট, ব্যাসিক ইফেক্ট এবং ট্রাঞ্জিশন ব্যবহারের  সুযোগ করে দিবে।

এটা অনেক ধরনের ফাইল ফরম্যাট এবং রেকর্ড ফরম্যাট সাপোর্ট করে। যেমন raw,  avi, dv, mpeg2, mpeg4, h.264, AVCHD, HDV, XDCAM-HD™ streams, IMX™  (D10) streams, DVCAM (D10) , DVCAM, DVCPRO™, DVCPRO50™ streams, এবং  DNxHD™ streams

আপনি যদি আইমুভির অল্টারনেটিভ খুঁজে থাকেন তাহলে এটা হবে আপনার জন্য বেস্ট চয়েস।

২। ওপেনশট

OpenShot অন্য আরেকটা মাল্টি পার্পোজ লিনাক্স ভিডিও এডিটর। OpenShot আপনাকে ট্রাঞ্জিশন, ইফেক্ট, অডিও এডজাস্ট এর মতো অসাধারণ ফিচার দিয়ে জীবনকে সহজ  করে তুলবে। এবং অবশ্যই এটাও আগের মত প্রায় সকল মিডিয়া ফরম্যাট সাপোর্ট করে।

আরো আপনি আপনার ভিডিও ডিভিডিতে বার্ন করতে পারবেন, ডাইরেক্ট ইউটিউব কিংবা  ভিমিও তে আপলোড করতে পারবেন। এছাড়া জনপ্রিয় সকল ফরম্যাট এ এক্সপোর্ট সুবিধা তো থাকছেই। এবং OpenShot হচ্ছে Kdenlive এর তুলনায় একটু সিম্পল। তাই  সিম্পল কোন ভিডিও এডিট করতে চাইলে OpenShot হবে বেস্ট এডিটিং সফটওয়ার।

– মাল্টি ট্র্যাক ভিডিও এডিটিং
– অনেক বেশি ফরম্যাট এর অডিও এবং ভিডিও ফাইল ফরম্যাট সাপোর্ট করে
– ইন্টারফেস এবং শর্টকাট কনফিগার করা যায়
– সহজেই টেক্সট, ইমেজ বসানো যায়
– অনেক অনেক ইফেক্ট এবং ট্রাঞ্জিশন আছে
– প্রক্সি এডিটিং
– অটো সেভ
– অনেক বেশি হার্ডওয়ার সাপোর্ট করে
– কি ফ্রেম ইফেক্ট
– ড্রাগ এন্ড ড্রপ সাপোর্ট
– আনলিমিটেড ট্র্যাক এবং লেয়ার
– রিয়াল টাইম প্রিভিউ
– 3D এনিমেটেড টাইটেল এবং ইফেক্ট

পরিশেষে

এগুলোই তো গেল মাস্ট লিনাক্স এপ্লিকেশন। লিনাক্সের জন্য যে সফটওয়্যার গুলো থাকলে আপনার জীবন সহজ হবে সেই এপ্লিকেশন গুলো নিয়েই মূলত এই আর্টিকেল লিস্ট। আমরা চেষ্টা করেছি বেস্ট সব এপ গুলো নিয়ে এক জায়গায় লিস্ট আপ করার। তবুও আপনি চাইলে আপনার পছন্দের এপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারবেন।

আজকের মতো এখানেই শেষ করছি ইনশাল্লাহ দেখা হবে নেক্সট আর্টিকেলে। যেকোন মতামত জানাতে কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

You Might Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *