বেস্ট ওপেন সোর্স লিনাক্স পেইন্ট এপ্লিকেশন

বেস্ট ওপেন সোর্স লিনাক্স পেইন্ট এপ্লিকেশন

আমি যখন প্রথম কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করি ( Windows XP ) তখন আমার সবথেকে বেশি প্রিয় যে এপ ছিল সেটা হচ্ছে মাইক্রোসফট পেইন্ট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিয়েছি ডুডলিং করে করে। অদ্ভুদ ভাবে এখনো ছোট ছেলে মেয়ারে পেইন্ট এপ্লিকেশন পছন্দ করে। শুধু শিশুরা নয় বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পেইন্ট এপ্লিকেশন সত্যি কাজে লেগে যায়।

এমন অনেক এপ আছে যেগুলোর সাহায্যে আপনি আঁকতে কিংবা পেইন্ট করতে পারবেন। যদিও বেশিরভাগ প্রোপ্রাইটারি এপ্লিকেশন। আর যেহেতু আপনি লিনাক্স ইউজার তাহলে আমাদের উচিত ওপেন সোর্স এপ্লিকেশন এর দিকে নজর দেয়া।

বেস্ট ওপেন সোর্স লিনাক্স পেইন্ট এপ্লিকেশন
বেস্ট ওপেন সোর্স লিনাক্স পেইন্ট এপ্লিকেশন

আজকের আর্টিকেলে আমরা বেশ কিছু ওপেন সোর্স এবং ফ্রি লিনাক্স সাপোর্টেড পেইন্ট এপ্লিকেশন নিয়ে কথা বলব। সেগুলোর সুবিধা – অসুবিধা নিয়ে কথা হবে, আলোচনা হবে বিস্তারিত ইনশাল্লাহ।

বেস্ট ওপেন সোর্স লিনাক্স পেইন্ট এপ্লিকেশন

১। Pinta

এক নজড়ে

১। Paint.NET অথবা MS Paint এর অসাধারণ অল্টারনেটিভ।

২। এড অন সাপোর্টেড।

৩। লেয়ার সাপোর্ট করে।

Pinta ব্যাসিক ইমেজ এডিটিং এবং ড্রয়িং জন্য বেস্ট এবং নাম্বার ওয়ান ওপেন সোর্স পেইন্ট এপ্লিকেশন। এক কথায় এটা সিম্পল একটা পেইন্ট এপ্লিকেশন কিন্তু সাধারণের তুলনায় একটু বেশি ফিচার সাথে নিয়ে।

পিন্টা কে আপনি হয়ত মাইক্রোসফট পেইন্ট এর লিনাক্স ভার্সন বলতে পারবেন কিন্তু এর লেয়ার সিস্টেম একে করেছে অনন্য। শুধুই MS পেইন্ট নয় বরং Paint.NET এর ও অসাধারণ লিনাক্স রিপ্লেস্মেন্ট হচ্ছে পিন্টা। যদিও Paint.NET অনেক বেটার তবুও এর কাছাকাছি ফিচার দিতে পারে শুধুমাত্র Pinta.

বেশ কিছু এড অন সংযুক্ত করার মতো সুবিধার জন্য এটি আর অনেক ফিচার সমৃদ্ধ হয়েছে, লেয়ার সাপোর্ট এর মাধ্যমে সহজেই ইফেক্ট দেয়া, ইমেজ রিসাইজ করা, এডজাস্ট করা সহ বিভিন্ন কাজের জন্য পিন্টা অনেক অনেক ভালো। এছাড়া এক্সপোর্ট করার সময় এর কোয়ালিটিও ডিফাইন করে দেয়া যায়।

২। Krita

এক নজড়ে

১। HDR পেইন্টিং

২। PSD সাপোর্ট

৩। লেয়ার সাপোর্ট

৪। ব্রাশ স্ট্যাবিলাইজার

৫। ২ডি এনিমেশন

Krita হচ্ছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এবং এডভান্স ওপেন সোর্স পেইন্ট এপ্লিকেশন যেগুলো লিনাক্সে সাপোর্টেড। অবশ্যই এই আর্টিকেলের বরাত দিয়ে বলা যায় যে ড্রয়িং, স্কেচ সহ বিভিন্ন কাজের জন্য এটি ক্যানভাস এর মতো কাজ করে। এছাড়াও এটি অনেক অনেক ফিচার আপনার সামনে তুলে ধরে।

সেই সাথে আপনার হাত যদি ছবি আঁকতে গিয়ে বার বার নড়ে যায় তাহলে সহজেই ব্র্যাশ স্ট্যাবিলাইজার স্ট্রোক এর সাহায্যে আপনি সুন্দর ড্র করতে পারবেন। এছাড়া বিল্ট ইন ভেক্টর টুলস ও আপনি এর সঙ্গে পেয়ে যাবেন যার মাধ্যমে সহজেই কমিক কিংবা কার্টুন আকা যায়।

আপনি যদি পুরো দস্তুর কালার ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট, ড্রইং এসিস্টেন্ট, লেয়ার ম্যাঞ্জেমেন্ট সহ আর বেশি সুবিধা চেয়ে থাকেন তাহলে Krita হবে বেস্ট চয়েস এভার।

৩। Tux Paint

এক নজড়ে

১। একটা নো-নন্সেস পেইন্ট এপ্লিকেশন বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য।

আমি মোটেই মজা করছি না, টাক্স পেইন্টয় আসলেই বেস্ট ওপেন সোর্স পেইন্ট এপ্লিকেশন ৩-১২ বছরের বাচ্চাদের জন্য। এবং বাচ্চাদের জন্য হওয়ায় আপনি নিশ্চয় খুব বেশি এডভান্স টুলস চাইবেন না? তাই এটাতে জাস্ট ব্যাসিক স্ক্রিবল টুলস দেয়া আছে।

৪। Drawpile

এক নজড়ে

১। কোলাবেরাটিভ ড্রয়িং

২। বিল্ট ইন চ্যাট যেন অন্য ইউজারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

৩। লেয়ার সাপোর্ট

৪। ড্রয়িং সেশন রেকোর্ডের সুবিধা।

ড্রপাইল অনেক ইন্টারেস্টিং একটা ড্রয়িং এপ্লিকেশন যেটা দিয়ে রিয়েল টাইম অন্য ইউজারের সাথে আপনি চ্যাট করতে পারবেন এবং কোলাবোরেট করে ড্রয়িং করতে পারবেন। প্র্যাকটিস এর জন্য আপনি শুধু একটা ফাকা ক্যানভাসেও ছবি আঁকতে পারবেন। ইউনিক ফিচারের মধ্যে আপনি পাবেন লেয়ার সুবিধা, ড্রয়িং সেশন রেকর্ড করার সুবিধা এবং চ্যাট ফাংশনালিটি যার মাধ্যমে সহজেই অন্যের সঙ্গে এন্টারেক্ট করা যায়।

আপনি একটা কোড শেয়ার করার মাধ্যমেই আপনার ফ্রেন্ড কিংবা অন্য কারোর সঙ্গে পাবলিক অথবা প্রাইভেট সেশন চালু করতে পারবেন। বাই ডিফল্ট সার্ভার হবে আপনার কম্পিউটার। কিন্তু চাইলে আপনি রিমোট সার্ভার ও ব্যবহার করতে পারবেন।

৫। MyPaint

এক নজড়ে

১। ডিজিটাইল পেইন্টারের জন্য অনেক সহজ একটা টুল

২। লেয়ার ম্যাঞ্জেমেন্ট সাপোর্ট

৩। আপনার ব্রাশ এবং ড্রয়িং এর মাঝে টুইক করার জন্য অনেক অনেক সুবিধা

MyPaint অনেক সহজ কিন্তু পাওারফুল ডিজিটাল পেইন্ট এপ্লিকেশন। পারফেক্টয় ডিজিটাল ব্রাশ স্ট্রোক তৈরির জন্য এর মধ্যে আছে অনেক এডভান্স টুইক অপশন। আমি যদিও খুব ভালো ছবি আঁকি এমন না কিন্তু ব্রাশ এডজাস্ট করার জন্য তবুও অনেক টুলস, কালার সহ একাধিক স্ক্র্যাচপ্যাড এপ্লিকেশন আছে যেগুলো দিয়ে বোঝা যায় যে এটা কতটা সহজ এবং অসাধারণ এপ্লিকেশন।

এটাতে লেয়ার ম্যানেজমেন্ট সাপোর্ট করে। যদিও লাস্ট আপডেট এসেছে অনেক বছর আগে তবুও এর লেটেস্ট আলফা বিল্ড ও অসাধারণ কাজ করে। আপনি যদি একটা ওপেন সোর্স এপ্লিকেশন খুঁজতে থাকেন যেটা খুব এডভান্স তাহলে এটাই হবে আপনার জন্য বেস্ট এভার চয়েস।

পরিশেষে

লিনাক্স যেমন ওপেন সোর্স এবং ফ্রি তাই এর বেশিরভাগ এপ্লিকেশন ও ফ্রি এবং ওপেন সোর্স। তাই জখনই আমরা কোন অল্টারনেটিভ খুঁজি যার মাধ্যমে সহজ করা যাবে লিনাক্স লাইফ তখন প্রথমেই আমাদের সামনে আসে ওপেন সোর্স এপ্লিকেশন। লিনাক্সের প্রতিটা ডিস্ট্রো তে তাদের সফটওয়ার সেন্টার থেকে উপরোক্ত এপ্লিকেশন গুলো আপনি ইন্সটল করতে পারবেন। এছাড়া চাইলে গুগল সার্চ করে কমান্ড পেয়ে যাবেন ইন্সটল করার জন্য।

আর যদি আপনি এরকম আর অনেক কাজের জন্য লিনাক্স অল্টারনেটিভ খুঁজে থাকেন তাহলে প্রথমেই আপনার উচিত হবে আমাদের এই ব্লগের অন্য আর্টিকেল গুলো পড়ে দেখা। অডিও টুলস, ভিডিও টুলস থেকে শুরু করে গেম অবধি আপনি পেয়ে যাবেন লিনাক্স সাপোর্টেড।

আজকের মতো এখানেই শেষ করছি, দেখা হবে ইনশাল্লাহ নেক্সট কোন আর্টিকেলে। ততদিন ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ। আর আপনি পেইন্টিং এর জন্য কোন টুলস টি ব্যবহার করছেন সেটাও জানিয়ে দিতে ভুলবেন না কমেন্ট বক্সে।

You Might Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *