উবুন্টুর কোন ভার্সন টি আপনার ব্যবহার করা উচিত ? | পর্ব – ২

উবুন্টুর কোন ভার্সন টি আপনার ব্যবহার করা উচিত ? | পর্ব - ২

আমরা গত আর্টিকেলে কথা বলেছি যে কোন ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট এর কি কাজ, উবুন্টুর কি কি ফ্লেভার বা ভার্সন আছে এবং কোনটা কি কাজে লাগে। কিন্তু সেখানে আমরা বহুল প্রচলিত উবুন্টুর ফ্লেভার নিয়ে কথা বলেছি, তবে আর অনেক ফ্লেভার আছে যেগুলো হয়ত আপনার পছন্দ হতে পারে। এবং আজকে সেগুলো নিয়েই কথা বলার চেষ্টা করব।

উবুন্টুর কোন ভার্সন টি আপনার ব্যবহার করা উচিত ? | পর্ব - ২
উবুন্টুর কোন ভার্সন টি আপনার ব্যবহার করা উচিত ? | পর্ব – ২

চলুন দেখে নেই কি কি ফ্লেভার নিয়ে আজকের আর্টিকেল

– Ubuntu Unity
– Ubuntu Mate
– Ubuntu Budgie
– Ubuntu Kylin
– Ubuntu Studio

তবে আজকে শুধু ফ্লেভার দেখেই আমরা সন্তুষ্ট থাকব না বরং সেই সাথে কোন আর্কিটেকচার আমাদের ব্যবহার করা উচিত কিংবা স্পেসিফিক ফ্লেভার এর কোন স্পেসিফিক ভার্সন ভালো হবে সেই সব বিস্তারিত আলোচনাও হবে।

প্রথমেই তাহলে চলুন দেখে নেই

১। উবুন্টু ইউনাইটি

উবুন্টু ইউনাইটি মূলত নতুন কোন ফ্লেভার নয় বরং এটি উবুন্টুর ই একটা ওল্ডার ভার্সন। ২০১৬ অবধি উবুন্টু ইউনাইটি ছিল তাদের অফিশিয়াল ডিফল্ট ভার্সন। ২০১৭ সালে উবুন্টু তাদের ইউনাইটি কে ড্রপ করে Gnome ফ্লেভার কে ডিফল্ট হিসেবে বেছে নেই। যদিও উবুন্টু থেকে ইউনাইটির আর কোন আপডেট নিয়ে আসা হয়না তবুও ইউনাইটি অনেক জনপ্রিয় ছিল এর ডিসেক্ট কনফিগারের জন্য।

তবে যদিও খুব বেশি প্রয়োজন না হয় তবে উবুন্টু Gnome এ থাকাই ভালো বলে আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি।

২। উবুন্টু মেট

উবুন্টু মেট Mate ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট ব্যবহার করে থাকে যেটা মূলত Gnome 2 এর ফর্কড ভার্সন। Gnome 3 এর মতো Gnome 2 এর ডেস্কটপ এপ্রোচ ইউনিক ছিল না, বরং ট্রাডিশনাল ডেস্কটপ এপ্রোচ ই তারা ব্যবহার করত। তাই অনেকে Gnome এর 3 ভার্সন টা ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করেনি। আর সেখান থেকেই ওইসব ইউজার এর কথা ভেবেই ডেভেলপ হয়েছে Mate ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট যেটা এখন আবার উবুন্টুর অফিশিয়াল ফ্লেভার।

যদি আপনার হার্ডওয়ার কনফিগ কম হয়ে থাকে এবং আপনি ট্রাডিশনাল ডেস্কটপ লেয়াউট পছন্দ করে থাকেন তাহলে বলব মেট অসাধারণ চয়েস।

৩। উবুন্টু Budgie

উবুন্টু Budgie হচ্ছে উবুন্টুর একদম লেটেস্ট অফিশিয়াল ফ্লেভার। নাম দেখেই বোঝা যায় যে এটি মূলত Budgie ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট এর উপর বেজ করে ডেভেলপড। Budgie মূলত ডেভেলপড হয়েছিল সোলাস লিনাক্সের মাধ্যমে। এর লুক অনেক এলিজেন্ট এবং মডার্ন। খুব দ্রুত Budgie এর ফ্যান ফলোয়ার বেজ তৈরি হয়েছে।

Budgie মূলত আপনাকে দেবে ম্যাক ওএস মতো নোটিফিকেশন এরিয়া, জিনোম এর মতো সাইড লঞ্চার। ওভারোল এর ইউজার ইন্টারফেস অসাধারণ। আপনি যদি মডার্ন লুকিং ডেস্কটপ পছন্দ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার Budgie এর দিকে যাওয়া উচিত।

৪। Ubuntu Kylin

উবুন্টুর এই ফ্লেভার মূলত চাইনিজ ইউজার এর দিকে নজর রেখে ডেভেলপড। এটি চাইনিজ ন্যাটিভ ল্যাঙ্গুয়েজ যেমন সাপোর্ট করে তেমনি চাইনিজ ট্রাডিশনাল লুক ও আছে।

৫। Ubuntu Studio

উবুন্টু স্টুডিও মূলত Xfce ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট এর সাথে সম্পৃক্ত এবং ডিফল্ট ভাবে আপনি প্রি ইন্সটল্ড বেশ কিছু অডিও এবং ভিডিও টুলস পাবেন। মূলত গ্রাফিক ক্রিয়েটর দের কথা মাথায় রেখেই এই ফ্লেভার তৈরি।

তাহলে এখন কোনটা ব্যবহার করব?

সবশেষে সব মিলিয়ে বলা যায় যে একজন এভারেজ ডেস্কটপ ইউজার হিসেবে আপনার ফোকাস থাকা উচিত উবুন্টুর ডিফল্ট ভার্সন কিংবা কুবুন্টু, জুবুন্টু, লুবুন্টু বা লিনাক্স মেট এর উপর। আর আপনার কাজের ধরন অনুযায়ী আপনি যেকোন একটা ব্যবহার করতে পারবেন।

তবে যদি আপনি ব্যবহার করে দেখতে চান তাহলে ইউএসবি তে লাইভ ইন্সটল করে চালিয়ে দেখতে পারবেন সবগুলো ডিস্ট্রোই।

কিন্তু কোন ভার্সন ব্যবহার করব।

এখন কোন একটা ফ্লেভার ইন্সটল করতে গেলে মাথায় প্রশ্ন উকি দেয় যে কোন ভার্সন ভালো হবে? ১৯ নাকি ২০ কিংবা ১৮ ? এখন এই নাম্বার গুলো বুঝতে হলে আপনাকে উবুন্টুর রিলিজ সাইকেল সম্বন্ধে জানতে হবে। উবুন্টু 19.04 বলতে বোঝায় ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে রিলিজ হয়েছে। যেহেতু এক বছর পর পর মূলত বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসা হয় তাই এমন ভার্সন নাম।

প্রতি ৬ মাসে উবুন্টু একটা করে নতুন ভার্সন রিলিজ করে। এবং সেটা সাধারণত এপ্রিল ( ৪ ) নয়তো অক্টোবর ( ১০ ) এই দুই মাসেই দেয়া হয়ে থাকে।  প্রথমত দুই ধরনের রিলিজ টাইম আছে

১। নরমাল রিলিজঃ প্রতি ৬ মাসে দেয়া হয় এবং ৯ মাসের জন্য সেটা সাপোর্টেড।

২। লং টার্ম রিলিজঃ প্রতি 2 বছরে দেয়া হয় এবং 5 বচরের জন্য সাপোর্ট করে।

আপনি আপনার প্রয়োজন মতো যেকোন রিলিজ ব্যবহার করতে পারেন।

৩২ বিট নাকি ৬৪ বিট, কোনটা নেব?

এখন থেকে নতুন যেকোন ভার্সন এ শুধুমাত্র ৬৪ বিট সাপোর্ট ই থাকবে। আপনি ৩২ বিটের জন্য পেতে চাইলে পুরাতন ভার্সন গুলোর দিকে দেখতে হবে।

তাই প্রথমেই আপনার প্রসেসর টি একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলেই দেখবেন সেটা ৬৪ বিট সাপোর্ট করে কিনা। যদি করে থাকে তাহলে নিঃসন্দেহে ৬৪ বিট ইন্সটল করবেন।

মূলত ২০১০ সালের পরের সব প্রসেসর ই ৬৪ বিট সাপোর্ট করে থাকে।

– ৬৪ বিট সাপোর্ট এবং 2 জিবির বেশি র‍্যাম থাকে আপনি ৬৪ বিটের ভার্সন ব্যবহার করবেন।
– এবং ৩২ বিট আর 2 জিবির চেয়ে কম র‍্যাম হলে অবশ্যই ৩২ বিট ইন্সটল করবেন।

পরিশেষে

আমি আশা করছি এবারে আপনার সিধান্ত নিতে খুব বেশি সুবিধা হবে। কারণ, আপনি এতদিন হয়ত অনেক কনফিউজড ছিলেন কিন্তু এত সহজ এবং সাবলীল আলোচনার পরে আর কোন সমস্যা থাকার কথা নয়। তাই আপনার পছন্দ অনুযায়ী যেকোন ফ্লেভার ইন্সটল করে ফেলুন এবং এক্সপ্লোর করুন ওপেন সোর্স এবং ফ্রি টেক বিশ্বে।

এবং সেই সাথে জানিয়ে দিন কমেন্ট করে কোন ফ্লেভার আপনি ইন্সটল করলেন এবং কেন করলেন। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি দেখা হবে ইনশাল্লাহ নেক্সট আর্টিকেলে। ততদিন ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। ধন্যবাদ।

You Might Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *