লিনাক্সের জনপ্রিয় ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট | পর্ব – ২

লিনাক্সের জনপ্রিয় ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট | পর্ব - ২

গত আর্টিকেলে আমরা লিনাক্সের বহুল জনপ্রিয় ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট নিয়ে কথা বলেছি। এবং আজকের আর্টিকেলে আমরা দেখব আরো বেশ কিছু লিনাক্স ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট যেগুলো বর্তমান সময়ে অনেক জনপ্রিয় এবং সেই এনভাইরোমেন্ট গুলো নিয়ে তার সুবিধা – অসুবিধা দুইটা নিয়েই আলোচনা করব।

তবে তার আগে একটা বিষয় ক্লিয়ার করে নেয়াই ভালো যে আপনি কিন্তু যে ডিস্ট্রোই ব্যবহার করেন না কেন প্রয়োজনে যেকোন ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট ইন্সটল করে নিতে পারবেন। এবং সেই কাজটাও খুব আহামরি কঠিন নয়, বরং বেশ সহজ। একটু গুগল কিংবা ইউটিউব এ খুঁজলেই এমন অনেক রিসোর্স পেয়ে যাবেন। তবে আমরা চেষ্টা করব নেক্সট এ এখানেও একটা আর্টিকেল পাবলিশ করার যেন সহজেই আপনিও আপনার ডিফল্ট ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট সুইচ করতে পারেন। তাহলে চলুন এবারে আর্টিকেলে ফিরি,

লিনাক্সের জনপ্রিয় ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট | পর্ব - ২
লিনাক্সের জনপ্রিয় ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট | পর্ব – ২

লিনাক্সের জনপ্রিয় ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট | পর্ব – ২

১। Budgie

Budgie সোলাস প্রোজেক্ট এর দ্বারা ডেভেলপড ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট। সোলাস হচ্ছে স্বাধীন লিনাক্স ডিস্ট্রো যেটা কোন ডিস্ট্রো এর উপর বেজ না করেই তৈরি এবং Gnome এর বিভিন্ন টেকনোলজি যেমন GTK ব্যবহার করে থাকে।

ট্রাডিশনাল ইউজার ইন্টারফেস এবং মডার্ন ইউজার ইন্টারফেস এর দুই এর সফল সংমিশ্রণ হচ্ছে Budgie. এটি ঠিক রিসোর্স হেভি নয় আবার ঠিক লাইটওয়েট ও না। তবে Gnome এর তুলনায় বেশ লাইট ওয়েট।

Ubuntu Budgie হচ্ছে উবুন্টুর একটা অফিশিয়াল ফ্লেভার যেটা Budgie ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট তাদের ডিফল্ট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। খুব বেশি লিনাক্স ডিস্ট্রো Budgie ডেস্কটপ ডেস্কটপ সাপোর্ট করেনা, শুধুমাত্র উবুন্টু এবং সোলাস ই মূলত ডিফল্ট হিসেবে অফিশিয়ালি ব্যবহার করে।

সুবিধাঃ

১। সলিড এবং বেশ ইউনিক

২। মডার্ন ইউজার ইন্টারফেস এবং বেশ পোলাইশড লুক

৩। কোন সমস্যা ছাড়াই সুন্দর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স দেয়।

অসুবিধাঃ

১। খুব কম ডিস্ট্রো তেই অফিশিয়ালি সাপোর্টেড। তবে চাইলে আপনি ম্যানুয়ালি ইন্সটল করতে পারবেন।

২। LXQt

LXQt হচ্ছে অনেক লাইটওয়েট ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট। LXDE এর সাথে তুলনা করে বলা যায় যে LXQt বেশ লাইটওয়েট ডেস্কটপ এনভো যদিও এরত ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বেশ ভালো।

শুধু থিওরিটিক্যালি নয় বরং লুবুন্টু ও LXDE রিপ্লেস করে এখন LXQt ব্যবহার শুরু করেছে।

যদিও পারফরম্যান্স এর সাথে কম্প্রোমাইজ না করেই LXQt চেষ্টা করে মডার্ন লুক এনে দিতে তবুও অন্যগুলোর তুলনায় এর ইউজার এক্সপেরিয়েন্স খুব একটা ভালো নয়।

তবে যদি আপনার এমন ডেস্কটপ চাই যেখানে লূক এর তুলনায় পারফ্রম্যান্স ম্যাটার করে তাহলে অবশ্যই এটা ভালো চয়েস।

সুবিধাঃ

১। ফাস্ট পারফরম্যান্স এবং অনেক লাইটওয়েট।

২। বেশ ডিসেন্ট ইউজার ইন্টারফেস বলা যাবে।

অসুবিধাঃ

১। ইউজার ইন্টারফেস তুলনামূলক খুব আধুনিক নয়।

২। খুব বেশি কাস্টোমাইজেবল না।

৩। খুব কম ডিস্ট্রো তেই অফিশিয়ালি সাপোর্টেড।

৩। Xfce

Xfce সবথেকে লাইট ওয়েট ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট। তবে LXQt এর মতো নয়, বরং অনেক অনেক লিনাক্স ডিস্ট্রো তেই আপনি অফিশিয়ালি Xfce ব্যবহার করতে দেখতে পাবেন।

যদিও রিসোর্স খুব কম ব্যবহার করে তবুও ফিচারের দিক দিয়ে কোন অংশে কম নয়। আপনার যদি ফাস্ট এবং বেস্ট পারফর‍্যমান্স এর লিনাক্স ডিস্ট্রো চাই যেটার ইউজার ইন্টারফেস বেশ সুন্দর তবে খুব বেশি এডভান্স কাস্টমাইজেশন প্রয়োজন নেই তবে অবশ্যই Xfce বেটার চয়েস।

অনেক অনেক ডিস্ট্রোর মধ্যে থেকে Manjaro Linux, Xubuntu, MX Linux, Zorion OS Lite এর কথা বলাই যায় যারা অফিশিয়ালি Xfce কে ডিফল্ট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

সুবিধাঃ

১। লাইটওয়েট এবং ওল্ড কম্পিউটারের জন্য বেস্ট

২। মডার্ন এবং বেশ সুন্দর ইউজার ইন্টারফেস

৩। উইন্ডোজ এর মতো অনেক্টা লেয়াউট

অসুবিধাঃ

১। এডভান্স কাস্টমাইজেশন অপশন নেই।

৪। Deepin

অনেক সময় লাইট ওয়েট, কম রিসোর্স ইউজ কিংবা বেশি কাস্টোমাইজেশন অফার করেই ইউজার কে আকৃষ্ট করা যায়না। সেক্ষেত্রে অনেকেই পারফম্যান্স কম্প্রোমাইজ করে বরং লুক এবং আই ক্যান্ডি ইউজার ইন্টারফেস এর দিকে নজর দেয়।

ঠিক এই সময়ে কাজে লাগে Deepin ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট।  দেখতে হয়ত ম্যাক ওএস এর মতো লাগতে পারে কিন্তু এর এনিমেশন এবং লেউয়াট আউট অফ দা বক্স এটা শিওর। এর লুক এবং ইন্টারফেস দেখে যে কেউ পছন্দ করতে বাধ্য হবে।

যদিও প্রথমে শুধুমাত্র Deeping OS এ ডিফল্ট ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হত। কিন্তু সময়ের ঢেউ এ এখন অনেক মেজর ডিস্ট্রো তাদের ডিফল্ট হিসেবে Deepin ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা প্রোজেক্ট UbuntuDDE তাদের ডিফল্ট হিসেবে Deepin ব্যবহার করছে। যদিও এটা খুব নতুন ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট না তবুও বেশ ধীরে ধীরেই এর প্রসার ঘটছে।

সুবিধাঃ

১। আই ক্যান্ডি ইউজার ইন্টারফেস।

২। স্লিক এনিমেশন।

অসুবিধাঃ

১। খুব বেশি রিসোর্স এবং টাইম ব্যবহার করে।

পরিশেষে

যদিও আমরা অনেক অনেক জনপ্রিয় ডিস্ট্রো গুলো নিয়ে কথা বলেছি তবুও এমন কিছু ডিস্ট্রো এখন আছে যেগুলো বেশ দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। যেমন

১। ট্রিনিটি ডেস্কটপ

২। লুমিনা ডেস্কটপ

আর এত এত ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট এসেছে কারণ একেক ইউজারের একেক রকম চাহিদা। কেউ লাইট ওয়েট চাই আবার কেউ চাই বেশি ফিচার কিংবা কেউ খুব বেশি সুন্দর মডার্ন লুক। তো সব দিক দিয়ে বিচার করতে গেলে অনেকগুলো ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট থাকা বেশ সুবিধাজনক।

আপনি কোন টা বেশি পছন্দ করেন কিংবা প্রেফার করেন? জানিয়ে দিন কমেন্ট বক্সে। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি, দেখা হবে ইনশাল্লাহ নেক্সট আর্টিকেলে।

You Might Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *