লিনাক্সের জন্য বেস্ট ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট

লিনাক্সের জন্য বেস্ট ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট

লিনাক্স ডেস্কটপ সিস্টেম এর কোর হচ্ছে ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট। অর্থাৎ আপনার ডেস্কটপ দেখতে কেমন হবে এবং ব্যবহার করে আপনি কেমন অনুভব করবেন সবকিছুই নির্ভর করে এই ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট এর উপরে। আপনি যদি ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স না পান তাহলে অবশ্যই লিনাক্স এর কোন ডিস্ট্রো ব্যবহারে আপনি অসাচ্ছন্দ বোধ করবেন।

তাই আমরা আজকের আর্টিকেল এ এমন কিছু ডেক্সটপ এনভাইরোমেন্ট নিয়ে কথা বলব যেগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি বেস্ট এক্সপেরিয়েন্স পাবেন।

লিনাক্সের জন্য বেস্ট ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট
লিনাক্সের জন্য বেস্ট ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট

 

তবে কোন ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট কেমন হবে সেটা বুঝতে হলে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু প্রতিটি লিনাক্স ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট ব্যবহার করে দেখা যেমন টাইম কঞ্জিউমিং তেমনি অনেক কঠিন কাজ।

তাই আমরা আপনাদের হইয়ে ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট ব্যবহার করে সেটার এক্সপেরিয়েন্স এখানে শেয়ার করব ইনশাল্লাহ। প্রতিটা লিনাক্স ডেস্কটপ এর ওভারভিউ এবং সেগুলোর সুবিধা – অসুবিধা নিয়ে কথা বলব।

লিনাক্সের জন্য বেস্ট ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট

১। KDE

KDE হচ্ছে সবথেকে জনপ্রিয় লিনাক্স ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট। আপনি হয়ত এটাকে Plasma নামেও চিনে থাকবেন। এটি অনেক অনেক কাস্টোমাইজেবল এবং লাইটোয়েট।

মাঝে মাঝে মনে হয় KDE যেন এই লাইটোয়েট ফিচারের দিক থেকে XFCE কেও হারিয়ে দেবে। এছাড়া KDE কানেক্ট দ্বারা সহজেই স্মার্টফোন কে আপনার ডেস্কটপ এর সঙ্গে কানেক্ট করতে পারবেন। এছাড়া KDE ব্রাউজার এর দ্বারা ফোন এবং লিনাক্স সিমুলেট করে ব্রাউজ করা সম্ভব। কুইক কমিউনিকেশন এর দিক থেকে অবশ্যই KDE বেস্ট চয়েস।

সবকিছু মিলিয়ে অনেক ফ্লেক্সিবল এবং কাস্টোমাইজেবল সেই সাথে লাইটওয়েট ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট হচ্ছে KDE Plasma

বেশ কিছু লিনাক্স ডিস্ট্রো যেমন openSUSE, Kubuntu, KDE Neon ডিফল্ট লিনাক্স ডিস্ট্রো হিসেবে KDE ব্যবহার করে থাকে।

সুবিধাঃ

১।  মডার্ন এবং অনেক ফ্লেক্সিবল ইন্টারফেস।

২। হাইলই কাস্টোমাইজেবল।

৩। অনেক প্রয়োজনীয় টুলস বিল্ট ইন থাকে।

৪। খুব খুব লাইটওয়েট।

অসুবিধাঃ

১। কাস্টোমাইজেবল ফিচার টা মাঝে মাঝে একদম বিগিনার দের জন্য একটু বেশি কনফিউশনে ফেলে দেয়।

২। Mate

মেট ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট মূলত GNOME 2 এর উপর বেজ করে তৈরি। Mate মূলত ডেভেলপ করা হয়েছিল সেসব ইউজার দের কথা ভেবে যারা Gnome এর নতুন ভার্সন ৩ এর প্রতি অসুন্তুষ্ট ছিল।

যদিও Gnome 2 এর উপর বেজ করে তৈরি তবে Mate এর ডেভেলপার টিম এটাকে আর উন্নত করে তুলেছে। যদি আমরা Ubuntu Mate 20.04 এর উদাহরণ নেই তাহলে বলা যাবে সব ধরনের ইউজারের জন্য এটা একটা পারফেক্ট চয়েস। আর অবশ্যই তাদের জন্য যারা Gnome 2 কে বেশি পছন্দ করে এবং Gnome 3 কে তেমন পছন্দ করেনা। আবার ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এর কথা বললে বলতে হবে এত কিছু অফার করা সত্ত্বেও Mate অনেক লাইটওয়েট।

Mate ও বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ব্যাসিক টুলস এবং বিল্ট ইন অনেক ফিচার নিয়েই রিলিজ হয়। Ubuntu Mate উবুন্টু এর অফিশিয়াল একটা ফ্লেভার যেটা Mate ব্যবহার করে থাকে। অনেক পপুলার লিনাক্স ডিস্ট্রো যেমন লিনাক্স মিন্ট, মাঞ্জারো সহ অনেকেই ডিফল্ট ভাবে Mate ব্যবহার করে থাকে।

সুবিধাঃ

১। ব্যবহারে সহজ এবং অসাধারণ এক্সপেরিয়েন্স

২। লাইটওয়েট

৩। সহজেই কাস্টোমাইজেবল।

অসুবিধাঃ

১। তবে খুব বেশি ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স দিতে পারেনা।

৩। Gnome

আলোচনা সাপেক্ষে বলা যেতে পারে যে Gnome হচ্ছে সবথেকে জনপ্রিয় লিনাক্স ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট। অনেক অনেক জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্ট্রো Gnome তাদের ডিফল্ট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। আবার এর বেশ কিছু সুপার ভার্সন আছে যেমন Cinnamon

Gnome ব্যবহারে বেশ সহজ এবং অনেক কাস্টোমাইজেবল। ইউজার ইন্টারফেস এর এক্সেরিয়েন্স ও বেশ ইউনিক এবং ফ্লেক্সিবল।

কিন্তু Gnome তেমন লাইটওয়েট কোন ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট না। সেজন্য ৪ জিবির কম র‍্যাম এবং পুরাতন ধরনের কম্পিউটার এর জন্য Gnome ডেস্কটপ তেমন একটা ভালো চয়েস না।

তবে আশার কথা হচ্ছে Gnome এর 3.36 ভার্সন থেকে ডেভেলপার টিম চেষ্টা করছে তাদের পারফরমান্স আগের তুলনায় আর বেটার করার।

তাই আপনি যদি অনেক ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এবং দেখতে বেশ সুন্দর ট্রাডিশনাল উইন্ডোজ লেয়াউট পছন্দ করে থাকেন তাহলে Gnome অবশ্যই বেশ ভালো একটা চয়েস।

বেশ জনপ্রিয় কিছু লিনাক্স ডিস্ট্রো যেমন Debian, Fedora, openSUSE, Ubuntu এবং Pop OS 20.04 তাদের ডিফল্ট হিসেবে Gnome ব্যবহার করে থাকে।

সুবিধাঃ

১। মডার্ন এবং টাচ ফ্রেন্ডলি ইউজার ইন্টারফেস।

২। Gnome Shell এক্সটেনশন এর মাধ্যমে এর ফাংশনালিটি বৃদ্ধির সুযোগ আছে।

৩। কাস্টোমাইজেবল।

অসুবিধাঃ

১। পুরাতন কম্পিউটারের জন্য তেমন পারফেক্ট না।

২। লাইটোয়েট না।

৪। Cinnamon

Cinnamon মূলত Gnome 3 এর একটা ফর্ক ভার্সন। মূলত প্রথমত ডেভেলপড হয়েছিল লিনাক্স মিন্ট এর ডিফল্ট এনভাইরোমেন্ট হিসেবে ব্যবহারের জন্য। এর সিমপ্লিসিটি এবং উইন্ডোজ লেয়াউট এর সঙ্গে বেশ সাদৃশ্য থাকায় নতুন লীনাএক্স ইউজার দের জন্য এটি বেশ ভালো চয়েস।

ট্রাডিশনাল ইউজার ইন্টারফেস এর সাথে বেশ মডার্ন ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট হিসেবে নিজের উপস্থাপন করে থাকে Cinnamon ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট।

সুবিধাঃ

১। স্লিক এবং পোলাইশড লুক

২। ফ্যামিলিয়ার ইন্টারফেস

৩। বেশ কাস্টোমাইজেবল।

অসুবিধাঃ

১। খুব বেশি ফিচারড ইউজার এক্সপেরিয়েন্স দেয়না।

পরিশেষে

আজকের আর্টিকেলে আমরা চেষ্টা করেছি বেশ কিছু জনপ্রিয় লিনাক্স ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট কে উপস্থাপন করতে। তবে স্বাভাবিক ভাবেই বেশ কিছু জনপ্রিয় লিনাক্স ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট বাদ চলে গেছে। তবে আমরা সেগুলোও উপস্থাপন করব ইনশাল্লাহ নেক্সট আর্টিকেলে।

সেই অব্ধি ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং কমেন্টে জানিয়ে দিন আপনার পছন্দের লিনাক্স ডেস্কটপ এনভাইরোমেন্ট কোনটি।

You Might Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *