সিএসএস ৩ এর টপ ফিচার

সিএসএস ৩ এর টপ ফিচার

যেকোন ওয়েব সাইট ভিজিট করলে ইউজারের কাছে সর্বপ্রথম যে বিষয়টা উথাপিত হয় সেটা হচ্ছে সাইট এর ডিজাইন বা ইউজার ইন্টারফেস। আর ইউজার ইন্টারফেস তৈরি করতে সবথেকে জনপ্রিয় টুল হল সিএসএস।

ওয়েব সাইটের ডিজাইন, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স, রেস্পপ্নসিভনেস থেকে শুরু করে সবকিছুতেই প্রথম চয়েস সিএসএস। সিএসএস এর উন্নতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত এবং সেই ধারায় সিএসএস ৩ এ এসেছে অনেক জনপ্রিয় এবং প্রয়োজনীয় কিছু ফিচার। আজকের এই লেখাতে আলোচনা করব সিএসএস এর সেই অসাধারণ ফিচার গুলো নিয়ে।

সিএসএস ৩ এর টপ ফিচার
সিএসএস ৩ এর টপ ফিচার
 
সিএসএস তার আগের ভার্সন গুলোর তুলনায় এই লেটেস্ট ৩ ভার্সনে হয়েছে অনেক ম্যাচিউর এবং স্মার্ট। অনেক এডভান্স ফিচার যুক্ত হয়েছে যেগুলো এখনো অনেক ব্রাউজার ই সাপোর্ট করে না। তবে এর উত্তর উত্তর উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ব্রাউজার গুলোও চেষ্টা করছে মানিয়ে নিতে।

পুর্বে অনেক কাজ ই ছিল যেগুলো সিএসএস দিয়ে করা প্রায় অসম্ভব ছিল। অতচ এখন সিএসএস ৩ এর মাধ্যমে এনিমেশন থেকে শুরু করে সব এডভান্স কাজ ই সহজে করা যায়।

পুর্বে যেখানে ছোট খাটো কাজের জন্য জাভাস্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে সাইটের লোড টাইম হয়ে যেত বেশি। সাইজ হত হিউজ সেখানে সিএসএস এসে পুরো কাজ টা সহজ হয়ে গেছে।

সাইটের লেয়াউট থেকে শুরু করে কন্টেন্ট, সবকিছুতেই অসাধারণ ইফেক্ট দেয়া যায় সিএসএস এর এসকল নতুন ফিচারের মাধ্যমে।

সিএসএস ৩ এর টপ ফিচার

১। এডভান্স এনিমেশন

ট্রানজিশন কিংবা এনিমেশন সবকিছুতেই এডভান্স লুক এবং ফিচার পরিচিত হয়েছে সিএসএস এর ৩ ভার্সনে। কোন কন্টেন্ট লোড নেবার পুর্বেকার যে এনিমেশন বা ট্রানজিশন যাকে বলা হয় সেক্ষেত্রে এখন শুধু ফেড ইন কিংবা আউট নয় বিল্টিন ট্রানজিশনের সঙ্গে সঙ্গে আপনি কাস্টম ট্রানজিশন ও এপ্লাই করতে পারবেন।

শুধু ট্রানজিশন নয় বরং এনিমেশন ও এখন হতে পারবে কাস্টম। টাইমিং যেমন ডিলে কিংবা ডিরেকশন সবকিছুই নিজের ইচ্ছামতো সাজিয়ে নিয়ে এনিমেশন তৈরি করা সম্ভব।

ফ্লোট, কালার, সাইজ, ট্রান্সফর্ম সহ অনেক অনেক প্রোপার্টির ইফেক্ট চেঞ্জ করা যায় এনিমেশন দিয়ে।

জাভাস্ক্রিপ্ট ছাড়াই এডভান্স এনিমেশন তৈরি করার ফলে সাইটের লোড টাইম এবং সাইজ দুইটাই যেমন কমেছে তেমনি সাইটের ইউজার ইন্টারফেস এবং এক্সপেরিয়েন্স বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। সাইটের ইন্টার‌্যাক্টিভিটি ইউজার কে দিয়েছে স্মুথ এক্সপেরিয়েন্স।

২। মাল্টিপল ব্যাকগ্রাউন্ড এবং গ্র্যাডিয়েন্ট

মাল্টিপল ব্যাকগ্রাউন্ড এর দ্বারা অনেক কমপ্লেক্স ব্যাকগ্রাউনড ডিজাইন করা সম্ভব সিএসএস ৩ এ। বিভিন্ন ধরনের ইমেজ এর সঙ্গে কালারের কম্বিনেশন বিষয়টাকে করে তুলেছে আরো সুন্দর। শুধু স্টিল ইমেজ নয় গিফ ইমেজ কিংবা ভিডিও কেও ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

আর ইমেজ কে লেয়ার হিসেবে ইউজ করে অনেকগুলো ইমেজ এর ট্রাক তৈরি করে সেখান থেকেও ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি সম্ভব। আবার চাইলে ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেজ কিংবা তার লেয়ারকে সহজেই চেঞ্জ করা যাবে এনিমেশন এবং বিভিন্ন ইফেক্ট দিয়ে।

আর গ্র্যাডিয়েন্ট এর কথা না বললেই না। বিভিন্ন রং এর মাধ্যমে তাদের ডিরেকশন সেট করে অসাধারন কালার কম্বিনেশন কে গ্র্যাডিয়েন্ট বলা হয়। আর এই কমপ্লেক্স কাজটা এখন সিএসএস ৩ এসে করে দিয়েছে সহজ এবং সাবলীল।

৩। মাল্টিপল কলাম লেয়াউট

সিএসএস ৩ এর আরো অসাধারণ একটি ফিচার হচ্ছে মাল্টিপল কলাম লেয়াউট। ডেভেলপার চাইলেই সহজে তাদের কন্টেন্ট কে মাল্টিপল লেয়াউট এ সাজিয়ে নিতে পারেন। এবং সেই কাজে গতি এনে দেই কলাম উয়াইড, গ্যাপ এবং কাউন্ট এর মতো প্রোপার্টিজ।

আগে যেখানে জাভাস্ক্রিপ্ট কিংবা সার্ভার সাইড রেন্ডারিং এর মাধ্যমে কলাম অনুযায়ী কন্টেন্ট বসানো হত কম্পোনেন্ট আকারে সেখানে এখন সহজেই মাল্টিপল কলাম সিএসএস দিয়েই করা যাচ্ছে। বাঁচিয়েছে বহু ডেভেলপারের কর্মঘণ্টা এবং করেছে তাদের জীবনকে আরো সহজ।

৪। অপাসিটি

অপাসিটির সাহায্যে যেকোন কম্পোনেন্ট কে ট্রান্সপারেন্ট করা যায়। আগে যেখানে ওয়েব পেজের কোন ইমেজ কে ফটো এডিটর এর সাহায্যে এডিট করে তারপরে সাইটে বসানো হত সেখানে এখন সিএসএস অপাসিটির এক লাইনের কোড দিয়েই সেই একই কাজ আরো সহজেই করা সম্ভব। ০-১ এর মধ্যে যেকোন পয়েন্ট বসিয়ে অপাসিটির চেঞ্জ করা সম্ভব।

৫। রাউন্ডেড কর্নার

বর্তমানের প্রায় সব জনপ্রিয় ওয়েব সাইটের যে বিষয়টা লক্ষণীয় সেটা হচ্ছে রাউণ্ডেড কর্নার। আগে যেখানে শার্প কর্নার ছিল ট্রেন্ড এখন সেখানে রাউন্ডেড কর্নারের জয়জয়কার। যেকোন এলিমেন্ট এর কর্নার কে রাউন্ড করা সম্ভব শুধুমাত্র এক লাইনের সিএসএস দিয়ে। রাউন্ডেড কর্নার এর কারণে এখন ফ্লুয়েন্ট ডিজাইন করা হয়েছে অনেক সহজ।

৬। সিলেক্টর

সিলেক্টর, বর্তমানে যে ফিচারটা বাদে পুরো ওয়েব জগতের ডিজাইন সেন্স কে চিন্তাই করা যায়না। সুডো ক্লাস, কিংবা সুডো এলিমেন্ট সব কিছুতেই সিলেক্টর এখন অধিক জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত। হোভার, ফোকাস থেকে শুরু করে যত ধরনের ইন্টারেকশন সম্ভব সব ক্ষেত্রেই এখন সুডো সিলেক্টর অপরিহার্য।

পুর্বের মতো বার বার একই এলিমেন্ট কে সিলেক্ট না করে এখন সিলেক্টর এর সাহায্যে সহজেই সেসব কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। ছোট খাটো ক্যাল্কুলেশন এর ব্যবহার পুরো সিলেক্টর কে করতে পারে আরো সহজ এবং সুন্দর।

পরিশেষে

ক্যাস্কেডিং স্টাইল শিট লেভেল ৩ বা সংক্ষেপে সিএসএস ৩ হচ্ছে সিএসএস এর আপগ্রেড ভার্সন যেখানে ডেভেলপার এবং ডিজাইনার রা পরিচিত হয়েছে বেশ কিছু নতুন এবং উপকারী ফিচারের সঙ্গে। পুর্বের সিএসএস ২ এর অনেক অসুবিধা এখন সিএসএস ৩ উধাও হয়ে গেছে। বর্তমানে সব জায়গায় সিএসএস বলতেই সিএসএস ৩ কে বোঝায়।

আজকে আর নয়, ইনশাল্লাহ দেখা হবে নেক্সট কোন ভিডিও তে। ততদিন ভালো থাকবেন, আসসালামু আলাইকুম।

You Might Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *