গুগল লাইটহাউস টুলস এর রিপোর্ট কিভাবে ব্যবহার করব?

গুগল লাইটহাউস টুলস এর রিপোর্ট কিভাবে ব্যবহার করব?

আমরা এই লেখাতে দেখেছি কিভাবে গুগল লাইটহাউস টুল ব্যবহার করে সাইট অডিট করতে হয়। কিন্তু সেই অডিটের রিপোর্ট কি বলতে চাচ্ছে এবং সেই রিপোর্ট দেখে কিভাবে সাইট ইম্প্রুভ করব সে সম্পর্কে জানাবো আজকের এই লেখাতে।

গুগল লাইটহাউস টুলস এর রিপোর্ট কিভাবে ব্যবহার করব?
 গুগল লাইটহাউস টুলস এর রিপোর্ট কিভাবে ব্যবহার করব?

আজকের আর্টিকেলের বিষয়বস্তু

1. গুগল লাইটহাউসের পারফরম্যান্স স্কোর কী?
2. পারফরম্যান্স স্কোর কিভাবে বৃদ্ধি করব?
3. গুগল লাইটহাউসের এক্সেসিবিলিটি
4. গুগল লাইটহাউসের এক্সেসিবিলিটি কিভাবে বাড়াবো
5. গুগল লাইটহাউসের বেস্ট প্র্যাকটিস
6. গুগল লাইটহাউস SEO চেক
7. পরিশেষে

গুগল লাইটহাউসের পারফরম্যান্স স্কোর কী?

সহজ ভাষায় বলতে গেলে গুগল লাইটহাউস এর পারফরম্যান্স স্কোর মূলত আপনার সাইটের কন্টেন্ট লোড নিতে কত সময় নেয় এবং সেই কন্টেন্ট ব্যাবহার উপযোগী হতে কত সময় লাগে সেটার ই একটা নির্দেশক।

মূলত ৬ টি মেট্রিক এ আপনার স্কোর জেনারেট হয়।

1. First Contentful Paint (FCP): এই স্কোর আপনার প্রথম কন্টেন্ট লোড নিতে যে সময় লাগে সেটাকে নির্দেশ করে। এখানে কন্টেন্ট বলতে ইমেজ বা টেক্সট সব কিছুকেই বোঝায়।

2. Speed Index (SI): কত দ্রুত আপনার ইমেজ এবং টেক্সট সহ সবধরনের কন্টেন্ট ওয়েব পেজ এ লোড নেয় সেই হিসেব টাই হচ্ছে স্পিড ইনডেক্স বা এসআই

3. Largest Contentful Paint (LCP): সবচেয়ে বেশি সাইজের ইমেজ কিংবা বেশি বড় কন্টেন্ট লোড নিতে যে সময় প্রয়োজন হয় সেটাকে বলে লার্জেস্ট কন্টেন্টফুল পেইন্ট।

4. Time to Interactive ( TI ): সম্পুর্ন ওয়েব পেইজ ইন্টারেক্টিভ হতে যে সময় প্রয়োজন হয়। ইন্টারেক্টিভ বলতে সব বাটন কাজ করে, স্লাইডার লোড নিবে এরকম ইউজার এর ইন্টারেকশন হওয়ার যোগ্য যেকোন কন্টেন্ট

5. Total Blocking Time: এটা হচ্ছে ফার্স্ট কন্টেন্টফুল পেইন্ট + স্পিড ইনডেক্স + লার্জেস্ট কন্টেন্টফুল পেইন্ট + টাইম টু ইন্টারেক্টিভ। অর্থাৎ পুরো স্কোর এর সমষ্টি।

6. Cumulative Layout Shift: ভিজিবল এলিমেন্ট্র এর মুভমেন্ট টাইম

নোটঃ এই সব স্কোর গুলো কিন্তু আপনার ইন্টারনেট স্পিড এর উপর নির্ভর করে রেজাল্ট দিবে।

প্রতিটা স্কোর এর সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন প্রতি স্কোরের নিচের Learn More লিংক এ।

পারফরম্যান্স স্কোর কিভাবে বৃদ্ধি করব?

গুগল সাজেস্ট করে কোন স্কোর একক ভাবে বৃদ্ধি না করে বরং সম্পুর্ন স্কোর বৃদ্ধি করতে। কেননা এর ফলে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বেটার হয়।

রিপোর্ট এর অপারচিউনিটি সেকশন আপনার করনীয় বিষয়গুলো সাজেক্ট করবে। এখান থেকে আপনি আপনার স্কোর বৃদ্ধির জন্য কিছু স্টেপ ফলো করতে পারেন।

যেকোন একটা অপারচিউনিটিতে ক্লিক করে এক্সপ্যান্ড করলেই সেখানে আরো অনেক বিস্তারিত জানাবে।

শুধু তাই নয় বরং HTML, CSS, JS, Image, Line of Code অথবা URL যেখানেই সমস্যা সেটা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করে। যার ফলে আপনার কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।

আর এখানেও আপনি Learn More এ ক্লিক করে ঐ পার্টিকুলার সমস্যার সমাধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

গুগল লাইটহাউসের এক্সেসিবিলিটি

এক্সেসিবিলিটি বলতে বোঝায় যে যেসব ইউজার ডিজেবল অর্থাৎ প্রতিবন্ধী তারা যেন আপনার সাইট সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারে সেটার স্কোর। অর্থাৎ আপনার সাইট যে সব ধরনের ইউজারের কাছেই সমান প্রাধান্য পায় এবং সবার এক্সপেরিয়েন্স ওভারোল ভালো হয় সেটার সুচক ই মূলত এক্সেসিবিলিটি।

অবশ্য এখানে এসে ওটোমেতেড রেজাল্ট খুব একটা ভালো ভাবে চেক করতে পারেনা। তাই গুগল এর learn More এ ক্লিক করে আপনি আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন যেন ম্যানুয়ালি টেস্ট করাটাও সহজ হয়।

গুগল লাইটহাউসের এক্সেসিবিলিটি কিভাবে বাড়াবো ?

প্রথমেই এক্সেসিবিলিটি সেকশনের যেকোন একটা অপারচিউনিটি সেকশন এক্সপ্যান্ড করুন এবং সেখানে দেখতে পাবেন কি কি সমস্যা আছে আপনার সাইটে।

এবং কিভাবে সেগুলো সমাধান করবেন সেই পদ্ধতি গুলোও খুব ভালো করেই বর্ণনা করা হয়েছে এই অপাচিউনিটি সেকশনে।

গুগল লাইটহাউসের বেস্ট প্র্যাকটিস

বেস্ট প্র্যাকটিস বলতে যেভাবে সাইট অডিট করে ফিক্স করলে গুগল লাইটহাউসের স্কোর অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার সাইটের ওভারোল পারফরম্যান্স বৃদ্ধি পাবে।

যদিও এই রিপোর্টের স্কোর বা মেট্রিক গুলো একদম এক্স্যাক্ট না বরং কিছু সুযোগ করে দেই সাইট ইম্প্রুভ করার।

তাই ভালো করে সাইটের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বেটার করতে গুগল লাইটহাউসের রিপোর্ট এর অপারচিউনিটি সেকশন ফলো করা উচিত।

গুগল লাইটহাউস SEO চেক

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন স্কোর বলতে বোঝায় আপনার সাইট সার্চ ইঞ্জিন এ র‍্যাংক এ কত ভালো করবে।

 

রিপোর্ট এর SEO সেকশনে গিয়ে আপনি আপনার সমস্যা সহ তার সমাধান খুঁজে পাবেন।

পরিশেষে

আপনার সাইট অডিট করে সেই রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা এতক্ষণ যা যা দেখেছি তা যদি এক নজরে দেখে নেই

1. গুগল লাইটহাউস শুধুমাত্র ওয়েব ডেভেলপার দের জন্য নয় বরং সকল শ্রেণির মানুষের জন্য।
2. এই রিপোর্ট অডিট করে সাইট ফিক্সড করতে আপনার কোন কোডিং অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই।
3. তবে আপনার সাইটের কোড বা ড্যাশবোর্ড এর এক্সেস আপনার কাছে থাকতে হবে।
4. প্রতিটি অপারচিউনিটির সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।
5. প্রতিটি ক্যাটেগরি ভালো ভাবে অডিট করে সেগুলোর সাজেশন ফলো করা উচিত।
6. একক কোন ক্যাটেগরির স্কোর না বৃদ্ধি করে বরং অভারোল স্কোর বৃদ্ধি করার চেষ্টা করা উচিত।
7. সবসময় স্কোর ৯০-১০০ রাখার জন্য সাইটের পারফরম্যান্স অডিট করে নেয়ার উচিত।

আজকের লেখা এখানেই শেষ করছি, ইনশাল্লাহ দেখা হবে নেক্সট কোন আর্টিকেলে। ভালো থাকবেন, আসসালামু আলাইকুম

You Might Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *